আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে মার্কিন ডলারের একক আধিপত্যের ওপর নির্ভরতা কমাতে এক বড় পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে লিবিয়া। দেশটি ডলারের বিকল্প হিসেবে চীনের নিজস্ব আন্তর্জাতিক লেনদেন মাধ্যম ‘ক্রস-বর্ডার ইন্টারব্যাংক পেমেন্ট সিস্টেম’ (সিআইপিএস)-এ যুক্ত হতে যাচ্ছে। এর ফলে লিবিয়ার বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো এখন থেকে সরাসরি চীনা মুদ্রা ইউয়ানে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও লেনদেন সম্পন্ন করতে পারবে।
লিবিয়ার কেন্দ্রীয় ব্যাংক এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ব্যাংকের বর্তমান গভর্নর নাজি মোহাম্মদ ইসা বেইজিং সফরকালে চীনের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর প্যান গংশেংয়ের সঙ্গে একটি উচ্চপর্যায়ের দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে মিলিত হন। বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান বাণিজ্যের সার্বিক অবস্থা পুঙ্খানুপুঙ্খ পর্যালোচনা করা হয় এবং দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য আরও সম্প্রসারণের নতুন উপায় নিয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়। খবর আনাদোলু এজেন্সির।
উক্ত বৈঠকে দুই দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মধ্যে একটি নতুন কৌশলগত অংশীদারত্ব শুরুর পাশাপাশি লিবিয়ার বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে চীনের সিআইপিএস নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত করার বিষয়ে চূড়ান্ত সম্মতি প্রকাশ করা হয়। ২০১৫ সালে চীনের চালু করা এই বিশেষ অর্থপ্রদান ব্যবস্থার মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে ব্যাংকগুলো কোনো মধ্যস্থতাকারী মার্কিন বা পশ্চিমা ব্যাংক ছাড়াই সরাসরি ইউয়ানে বৈশ্বিক লেনদেন সারতে পারে, যা আন্তর্জাতিক আর্থিক লেনদেনকে অনেক সহজ ও দ্রুতগতির করবে।
নতুন এই দ্বিপাক্ষিক চুক্তির অধীনে সরাসরি চীনা ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ঋণপত্র বা লেটার অব ক্রেডিট (এলসি) খোলার বিষয়েও দুই দেশ ঐকমত্যে পৌঁছেছে। এই সমঝোতা ও প্রক্রিয়াগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের লক্ষ্যে খুব শিগগিরই লিবিয়ার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নরের নেতৃত্বে দেশটির শীর্ষ বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের বিশেষ প্রতিনিধি দল চীন সফর করবে।
চীন সফরকালে লিবিয়ার ব্যাংকিং প্রতিনিধি দলটি বেইজিংয়ের ব্যাংকিং খাতের শীর্ষ প্রতিনিধিদের সঙ্গে একাধিক দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে অংশ নেবে। এই সফরের মূল লক্ষ্য হবে দুই দেশের বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদার করা এবং ইলেকট্রনিক পেমেন্ট ও সরাসরি আর্থিক লেনদেনের ক্ষেত্রে চীনের আধুনিক অভিজ্ঞতা ও প্রযুক্তিকে লিবিয়ার বাজারে কাজে লাগানো।
লিবিয়ার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মতে, এই বৈপ্লবিক অর্থনৈতিক উদ্যোগটি দেশের অনানুষ্ঠানিক বা অবৈধ আর্থিক বাজারের ওপর সাধারণ মানুষের নির্ভরতা অনেকাংশে কমিয়ে আনবে। পাশাপাশি অর্থপাচার ও সন্ত্রাসে অর্থায়নবিরোধী আন্তর্জাতিক মানদণ্ড (এএমএল/সিএফটি) অনুসরণে লিবিয়াকে সহায়তা করবে, যা দীর্ঘমেয়াদে দেশটির ব্যাংকিং খাতের আন্তর্জাতিক সুনাম ও গ্রহণযোগ্যতা আরও বাড়িয়ে তুলবে।







