ভারতের মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের প্রতিবাদ এবং শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগসহ তিন দফা দাবিতে আন্দোলন আরও জোরদারের ঘোষণা দিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। মঙ্গলবার দিল্লির যন্তর মন্তরে দলটির নেতা অভিজিৎ দীপক বলেন, পুলিশের বাধা সত্ত্বেও আন্দোলন চলবে, যদিও আপাতত সংসদ অভিমুখে নতুন কর্মসূচি দেওয়া হবে না।
এর আগে ‘চলো সংসদ’ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে দিল্লি পুলিশ আন্দোলনের মঞ্চ ভেঙে দেয় এবং সংসদমুখী মিছিল ছত্রভঙ্গ করতে টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ করে। সংঘর্ষে শতাধিক আন্দোলনকারী ও পুলিশ সদস্য আহত হন। আহতদের মধ্যে এক তরুণীর অবস্থা আশঙ্কাজনক; তাকে দিল্লির রাম মনোহর লোহিয়া হাসপাতালে ভেন্টিলেশন সাপোর্টে রাখা হয়েছে।
আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারি বাসভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস। রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধীসহ দলের শীর্ষ নেতারা সেখানে গেলে দিল্লি পুলিশ কয়েকজনকে আটক করে। এ সময় রাহুল গান্ধীর নাক দিয়ে রক্ত ঝরতে দেখা যায়।
কর্মসূচির আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে রাহুল গান্ধী লেখেন, শিক্ষার্থীদের ওপর চালানো সহিংসতার জবাব চাইতেই তারা প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে গেছেন। তিনি প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করেন। পরে তিনি ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধী হাসপাতালে গিয়ে আহত আন্দোলনকারীদের খোঁজ নেন। অন্যদিকে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জগৎ প্রকাশ নাড্ডা আহতদের চিকিৎসার অগ্রগতি পরিদর্শন করেন।
সরকারি সূত্রের বরাতে এনডিটিভি জানিয়েছে, পরিস্থিতি বিবেচনায় আন্দোলনকারীদের সঙ্গে সংলাপের পথ খোলা রাখা হয়েছে, তবে এখনো কোনো নির্দিষ্ট সময়সূচি ঠিক করা হয়নি।
সিজেপির মুখপাত্র সৌরভ দাস জানান, তাদের তিনটি প্রধান দাবি হলো—শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ, নিহত পরীক্ষার্থীদের পরিবারকে এক কোটি রুপি করে ক্ষতিপূরণ এবং হাসপাতালে ভর্তি সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুকের নিঃশর্ত মুক্তি। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত থাকবে বলে তিনি জানান।
এদিকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি প্রশ্নফাঁসের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজু বলেন, প্রশ্নফাঁস রোধ করা জাতীয় দায়িত্ব এবং দায়ীদের কঠোর শাস্তির আওতায় আনা হবে।
অন্যদিকে রাহুল গান্ধী অভিযোগ করেন, বিচার চাওয়া শিক্ষার্থীদের ওপর লাঠিচার্জ চালিয়ে সরকার তরুণ সমাজের কণ্ঠরোধের চেষ্টা করছে। তার ভাষায়, নরেন্দ্র মোদি ভারতের ইতিহাসের সবচেয়ে ‘তরুণবিরোধী’ প্রধানমন্ত্রী।
বিশ্লেষকদের মতে, শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে ব্যাপক জনসমর্থন এবং বিরোধী দলের সরাসরি অংশগ্রহণ আন্দোলনকে নতুন মাত্রা দিয়েছে, যা প্রধানমন্ত্রী মোদির ওপর রাজনৈতিক চাপ বাড়াতে পারে। অভিজিৎ দীপকের অভিযোগ, সরকারের ব্যর্থতার কারণেই পরিস্থিতি এই পর্যায়ে পৌঁছেছে। তিনি বলেন, শিক্ষামন্ত্রীকে আগেই বরখাস্ত করা হলে এ আন্দোলনের প্রয়োজন হতো না। পুলিশি অভিযানে আহত শিক্ষার্থীদের কাছে ক্ষমা চেয়ে তিনি আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকারও পুনর্ব্যক্ত করেন।







