রাজধানীর ফার্মগেটে বহুল আলোচিত ‘টিপকাণ্ডে’ চাকরিচ্যুত হওয়া সাবেক পুলিশ কনস্টেবল মো. নাজমুল তারেক দীর্ঘ চার বছর পর আইনি লড়াইয়ে জয়ী হয়ে চাকরিতে ফিরে পেয়েছেন। বৃহস্পতিবার প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনাল এক রায়ে তাঁকে পুনরায় বহাল করার নির্দেশ দেন।
নাজমুল তারেকের আইনজীবী আব্দুর রহিম কাজল রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনালে করা মামলার দীর্ঘ বিচার প্রক্রিয়া শেষে আদালত নাজমুল তারেককে তাঁর স্বপদে বহাল করার নির্দেশ প্রদান করেন।
ঘটনার সূত্রপাত ২০২২ সালের ২ এপ্রিল। রাজধানীর ফার্মগেট এলাকায় ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) প্রটেকশন বিভাগে কর্মরত নাজমুল তারেকের সঙ্গে উল্টো পথে মোটরসাইকেল চালানোকে কেন্দ্র করে তেজগাঁও কলেজের শিক্ষক লতা সমাদ্দারের বাকবিতণ্ডা হয়। পরবর্তীতে ওই শিক্ষক অভিযোগ করেন, পুলিশের পোশাক পরা ওই ব্যক্তি তাঁকে ‘টিপ পরছোস কেন’ বলে কটূক্তি করেছেন।
ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে তীব্র সমালোচনা তৈরি হয়। সে সময় পুলিশ প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ তদন্তের পর নাজমুল তারেককে প্রথমে সাময়িক বরখাস্ত এবং পরবর্তীতে বিভাগীয় ব্যবস্থার মাধ্যমে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।
তবে চাকরি হারানোর পর থেকেই নাজমুল তারেক দাবি করে আসছিলেন যে তিনি ষড়যন্ত্রের শিকার। টিপ নিয়ে তিনি কোনো কটূক্তি করেননি এবং ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয় দোকানদারও তাঁর পক্ষে সাক্ষ্য দিয়েছিলেন। মিথ্যা অভিযোগের বিরুদ্ধে প্রতিকার চেয়ে ২০২২ সালের নভেম্বরে প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনালে মামলা দায়ের করেন তিনি, যার চূড়ান্ত রায়ে আদালত তাঁকে পুনর্বহালের আদেশ দেন।
