২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দীর্ঘদিনের আবাসস্থল গণভবনকে রূপান্তরিত করা ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’ আগামী ৫ আগস্ট আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন হতে যাচ্ছে। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাদুঘরটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন। উদ্বোধনের তারিখ ঘনিয়ে এলেও জাদুঘরটির জন্য স্থায়ী জনবল নিয়োগ প্রক্রিয়া এখনো সম্পন্ন হয়নি। ফলে আপাতত জাতীয় জাদুঘরের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং আউটসোর্সিংয়ের জনবল দিয়ে উদ্বোধনী কাজ ও দর্শনার্থী ব্যবস্থাপনার প্রস্তুতি চলছে।
সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয় ও গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের যৌথ উদ্যোগে শেরেবাংলা নগরে ১৭ দশমিক ৬৮ একর জমিতে এই জাদুঘর বাস্তবায়িত হয়েছে। জুলাই স্মৃতি জাদুঘরের মহাপরিচালক তানজিম ওয়াহাব জানিয়েছেন, পূর্ত ও জাতীয় জাদুঘরের জন্য মোট ১২৩ কোটি ৪৫ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হলেও খরচ হয়েছে ১১০ কোটি ৯২ লাখ টাকা এবং অব্যয়িত ১২ কোটি ৫৩ লাখ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়েছে। নতুন পর্ষদের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী।
তবে জাদুঘরটি নির্মাণের শুরু থেকেই কেনাকাটা, ভাস্কর্য ও প্রামাণ্যচিত্র নির্মাণ এবং সরাসরি ক্রয়পদ্ধতি (DPM) অনুসরণ করা নিয়ে নানা অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) উন্মুক্ত দরপত্রের পরিবর্তে সরাসরি ক্রয়ের এ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি লঙ্ঘনের আশঙ্কার কথা জানিয়েছিল। এ বিষয়ে জাদুঘর কর্তৃপক্ষ জানায়, স্বল্প সময়ে দ্রুত কাজ শেষ করার জন্য সরকারি অনুমোদন সাপেক্ষেই এ নিয়ম অনুসরণ করা হয়েছে এবং অডিট প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এর আনুষ্ঠানিক মূল্যায়ন হবে।
জাদুঘরটির ভেতরে অভ্যুত্থান ও বিগত সরকারের ১৫ বছরের রাজনৈতিক বাস্তবতার নানাবিধ চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। এতে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলের গুম, নির্যাতন, শাপলা চত্বরের ঘটনা ও বিডিআর বিদ্রোহের ইতিহাসসহ প্রতীকী আয়নাঘর এবং প্রায় আড়াই হাজার ডামি কবর সম্বলিত স্মৃতি স্তম্ভ নির্মাণ করা হয়েছে। তা ছাড়া গণভবনের মাঠে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের স্যালুট দেওয়া রিকশাচালক মো. সুজন খানের ভাস্কর্যসহ আন্দোলনে শহীদ ও আহতদের স্মৃতিচিহ্ন এবং শেখ হাসিনার পালিয়ে যাওয়ার চিত্রাবলি স্থান পেয়েছে।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহীদ মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধর ভাই ও জাদুঘর পর্ষদের সদস্য মীর মাহবুবুর রহমান স্নিগ্ধ জানান, বিগত শাসনকালের অন্যায়-অবিচারের সঠিক ইতিহাস নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে দ্রুত জাদুঘরটি উন্মুক্ত করা প্রয়োজন। স্থায়ী জনবল সংকট ও প্রশাসনিক পর্যালোচনা অব্যাহত থাকলেও আগামী ৫ আগস্ট থেকে সর্বসাধারণের জন্য ঐতিহাসিক এই স্মৃতি জাদুঘরটি খুলে দেওয়ার যাবতীয় চূড়ান্ত প্রস্তুতি এখন শেষের পথে।







