রাজধানীর মিরপুরে যুবদলকর্মী মো. ইউসুফ (৪৫) হত্যার ঘটনায় মূল রহস্য উদঘাটনের দাবি করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)। সংস্থাটির দাবি, কাফরুল থানা যুবদলের সদস্যসচিব হাফিজুল ইসলাম বাবুকে হত্যার উদ্দেশ্যে ২৫ লাখ টাকার চুক্তিতে মাগুরা ও ঝিনাইদহ থেকে চার পেশাদার শুটার ভাড়া করা হয়েছিল। তবে হামলার সময় লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে ইউসুফ নিহত হন।এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত আটজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ডিবি।
সোমবার (২৭ জুলাই) দুপুরে রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) শফিকুল ইসলাম।
ডিবি জানায়, গত শুক্রবার রাতে মিরপুর-১৩ নম্বরে গুলির ঘটনায় ইউসুফ নিহত হন। এ ঘটনায় যুবদলকর্মী মনির হোসেন (৩২) ও সবজিবিক্রেতা সালাম সরদার (৪৫) আহত হন। পরে ইউসুফের বড় ভাই মাসুদ রানা বাদী হয়ে কাফরুল থানায় হত্যা মামলা করেন।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—চঞ্চল (৩৪), জিহাদ মোল্লা (৩০), জিয়ারুল মোল্লা (৩৯), মাসুম বিল্লাহ (২৮), নাহিদ হাসান (২১), আবির হাওলাদার (২৫), আলী হোসেন (৪৫) ও শাফিন আহমেদ (২২)। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে বলেও জানানো হয়।
ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম বলেন, হামলার পর পালানোর সময় স্থানীয় লোকজন অস্ত্রসহ চঞ্চলকে আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে। পরে প্রযুক্তিগত সহায়তায় নাহিদ ও শাফিনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে জিয়ারুল, আলী হোসেন, জিহাদ, আবির ও মাসুমকে বিভিন্ন স্থান থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
তিনি জানান, কাফরুল থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক হাফিজুর রহমান হাফিজ ওরফে সিএনজি হাফিজের সঙ্গে যুবদল নেতা হাফিজুল ইসলাম বাবুর দীর্ঘদিনের বিরোধ ছিল। স্থানীয় ময়লার টেন্ডার, ফুটপাতের দোকান, ব্যবসা ও একটি টিনশেড বাড়ির দখলকে কেন্দ্র করে এ বিরোধ তৈরি হয় বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
ডিবির দাবি, এই বিরোধের জেরে বাবুকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয় এবং ২৫ লাখ টাকার চুক্তিতে মাগুরা ও ঝিনাইদহ থেকে পেশাদার শুটার আনা হয়। গত ২৯ জুন প্রথমবার হত্যাচেষ্টার প্রস্তুতি নেওয়া হলেও অস্ত্রে মিসফায়ারের কারণে তা ব্যর্থ হয়। পরে ২২ জুলাই শুটাররা আবার ঢাকায় আসে।
ডিবি জানায়, ২৪ জুলাই রাতে সন্দেহভাজন ব্যক্তিরা বাবুর কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেয়। পরিচয় জানতে চাইলে তারা নিজেদের মিরপুর-১০ এলাকার বাসিন্দা বলে জানায়। পরে তল্লাশির চেষ্টা করা হলে একজন অস্ত্র বের করে ইউসুফকে গুলি করে। এ সময় এলোপাতাড়ি গুলিতে আরও দুজন আহত হন।
হত্যাকাণ্ডে কোনো রাজনৈতিক দলের শীর্ষ পর্যায়ের নেতার সংশ্লিষ্টতা আছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে শফিকুল ইসলাম বলেন, সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারে। তবে সন্ত্রাসীদের কোনো দল নেই এবং তাদের রাজনৈতিক পরিচয়ের বাইরে গিয়ে সন্ত্রাসী হিসেবেই বিবেচনা করা হবে।
তিনি আরও জানান, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা জিজ্ঞাসাবাদে বলেছেন, হাফিজুর রহমান হাফিজ তাঁদের ভাড়া করে এনেছিলেন। অস্ত্রের উৎস শনাক্তে তদন্ত চলছে। পুলিশ একটি অস্ত্র উদ্ধার করেছে।
ডিবির ভাষ্য অনুযায়ী, আসন্ন সিটি করপোরেশন নির্বাচন সামনে রেখেও এ হামলার পরিকল্পনা হয়ে থাকতে পারে। এ ঘটনায় হাফিজুর রহমানকে মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে এবং তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
এ ঘটনায় কাফরুল থানায় হত্যা ও অস্ত্র আইনে পৃথক দুটি মামলা হয়েছে। হত্যা মামলাটি বর্তমানে ডিবি তদন্ত করছে।







