দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকার পর আওয়ামী লীগের সাবেক মন্ত্রী ও দলটির আইনবিষয়ক সম্পাদক শ ম রেজাউল করিমকে যুক্তরাজ্যের লন্ডনে প্রকাশ্যে দেখা গেছে। সম্প্রতি লন্ডনের একটি রেস্তোরাঁয় বসে তাঁকে ডাব খেতে দেখা যায়, যেখানে তাঁর পরনে ছিল একটি হাফ হাতা শার্ট। ৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের পর তিনি কীভাবে এবং কোথায় অবস্থান করছেন—সে নিয়ে সৃষ্ট দীর্ঘদিনের জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটল তাঁর এই প্রকাশ্য উপস্থিতির মাধ্যমে।
লন্ডনে অবস্থানকালে সাবেক এক ছাত্রদল নেতার তীব্র ক্ষোভ ও তোপের মুখে পড়েন শ ম রেজাউল করিম। ওই ছাত্রদল নেতা তাঁকে উদ্দেশ্য করে বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে দেশে গুম, খুন ও নির্যাতন চালানো হয়েছে, ইলিয়াস আলী ও চৌধুরী আলমের মতো নেতাদের নিখোঁজ করা হয়েছে এবং সাধারণ শিক্ষার্থী ও এনসিপি নেতাকর্মীদের হত্যা করা হয়েছে। এ ধরনের অপরাধের পরও কীভাবে তাঁরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ান ও কথা বলার সাহস পান—তা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়।
এর আগে গত বছরের ১৩ জুন শ ম রেজাউল করিমকে লন্ডনের ঐতিহ্যবাহী ডরচেস্টার হোটেলের সামনে একটি কেকের দোকানে দেখা গিয়েছিল। সে সময় হলুদ রঙের পোশাকে থাকা রেজাউল করিমের সঙ্গে ছিলেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী আব্দুর রহমান এবং সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী শফিকুর রহমান চৌধুরী।
জানা গেছে, প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের লন্ডন সফরকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা যে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালনের উদ্যোগ নিয়েছিলেন, তাতে অংশ নিতেই শ ম রেজাউল করিম সেখানে উপস্থিত হয়েছিলেন। দুপুর আড়াইটার দিকে শুরু হওয়া সেই কর্মসূচিটি ছিল প্রধান উপদেষ্টার সফর ঘিরে স্থানীয় আওয়ামী লীগ আয়োজিত ধারাবাহিক বিক্ষোভের অংশ।
উল্লেখ্য, গত বছর ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মুখে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটলে সাবেক এই মন্ত্রী দ্রুত আত্মগোপনে চলে যান। পরবর্তীতে এক ভিডিও বার্তায় তিনি ভারতে প্রবেশ করে সেখান থেকে অন্য কোনো তৃতীয় দেশে আশ্রয় নেওয়ার কথা স্বীকার করলেও সুনির্দিষ্ট স্থানের কথা জানাননি। শেষ পর্যন্ত লন্ডনে তাঁর এই উপস্থিতি সব রহস্যের উন্মোচন করল।
