সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে ১ আগস্ট থেকে দেশের সব গণপরিবহনে জিপিএস (গ্লোবাল পজিশনিং সিস্টেম) ডিভাইস সংযুক্তি ও সচল রাখা বাধ্যতামূলক করেছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)। প্রতিষ্ঠানটির নির্দেশনা অনুযায়ী, এখন থেকে জিপিএস ট্র্যাকার যুক্ত না থাকলে এবং তা মোবাইল অ্যাপে সচল না দেখালে নতুন গাড়ির রেজিস্ট্রেশন দেওয়া হবে না, এমনকি পুরোনো গাড়ির ফিটনেস সনদও নবায়ন করা হবে না।
বিআরটিএর নির্দেশনায় শুধু ডিভাইস স্থাপনই নয়, সেটি সার্বক্ষণিক সচল রাখার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮ এবং সড়ক পরিবহন বিধিমালা, ২০২২-এর বিধান মেনে নতুন ও পুরোনো উভয় ধরনের যানবাহনে জিপিএস নিশ্চিত করেই সেবা দেওয়ার প্রক্রিয়া কার্যকর করা হচ্ছে। বিআরটিএর চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান পরিবহন মালিক ও প্রতিনিধিদের ফিটনেস বা রেজিস্ট্রেশনের সময় জিপিএস সংযুক্ত অবস্থায় গাড়ি নিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন।
সরকারের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানালেও সার্বিকভাবে সব গাড়িতে তাৎক্ষণিকভাবে এটি বাস্তবায়ন নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি। সংগঠনের সাংগঠনিক সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম খান জানান, বিভিন্ন কোম্পানির সাথে জিপিএস ট্র্যাকার বসানোর চুক্তি হলেও নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সব গণপরিবহনে এটি পুরোপুরি সক্রিয় করা কঠিন। তাই পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে সরকারের কাছে আরও কিছু সময় দাবি করেছেন তারা।
প্রযুক্তিভিত্তিক এই সুবিধার কারণে গণপরিবহনের বেপরোয়া গতি, অনুমোদিত রুটের বাইরে চলাচল এবং রেষারেষি মনিটর করা অনেক সহজ হবে। এছাড়া যেকোনো দুর্ঘটনা, ছিনতাই বা জরুরি পরিস্থিতিতে গাড়ির অবস্থান নিখুঁতভাবে শনাক্ত করা সম্ভব হবে। পরবর্তীতে যাত্রীদের জন্য কেন্দ্রীয় মোবাইল অ্যাপ চালু করা হলে বাসের সম্ভাব্য পৌঁছানোর সময় ও অবস্থান আগেই জানা যাবে, যা সার্বিক যোগাযোগ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা নিয়ে আসবে।
তবে কেবল প্রযুক্তি চালুর মাধ্যমে রাতারাতি সড়ক দুর্ঘটনা বা বিশৃঙ্খলা বন্ধ করা সম্ভব নয় বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক সাইদুর রহমান উল্লেখ করেন, প্রযুক্তির ব্যবহারের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও কাঠামোগত সংস্কার নিশ্চিত করতে হবে। লক্কড়ঝক্কড় ও মেয়াদোত্তীর্ণ গাড়ি রাস্তা থেকে না সরিয়ে শুধু জিপিএস বসালে প্রকৃত সুফল মিলবে না বলেও মত প্রকাশ করেন বিশ্লেষকেরা।
