জুলাই ২০২৪ সালের আন্দোলনের সময় গুলিতে অন্তত ৫৩৭ জন দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে। জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশন ও জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট হাসপাতালের তথ্যের বরাত দিয়ে জানানো হয়, ১৭ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত ২০ দিনে ৪৪ জন উভয় চোখের এবং ৪৯৩ জন এক চোখের দৃষ্টিশক্তি হারান।
প্রতিবেদনে বলা হয়, দুই চোখের দৃষ্টিশক্তি হারানো ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী, গাড়িচালক, চাকরিজীবী, শ্রমিক ও গৃহিণী। অনেকের শরীরে এখনো গুলি রয়ে গেছে। আহতদের একটি বড় অংশ পরিবারের প্রধান উপার্জনকারী ছিলেন। বর্তমানে তারা সরকারি ভাতার ওপর নির্ভরশীল হলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল বলে অভিযোগ করেছেন। পাশাপাশি পুনর্বাসন ও রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির ক্ষেত্রেও ঘাটতির কথা তুলে ধরেছেন তারা।
গত বছর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ সাক্ষ্য দেন জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট হাসপাতালের রেটিনা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. জাকিয়া সুলতানা নীলা। তিনি জানান, আন্দোলনের সময় চোখে গুলিবিদ্ধ ৮৬৪ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। তাদের মধ্যে ৪৯৩ জন স্থায়ীভাবে এক চোখের দৃষ্টিশক্তি হারান।
তিনি বলেন, আন্দোলনের প্রথম দিকে জরুরি বিভাগে শতাধিক আহত ব্যক্তি চিকিৎসার অপেক্ষায় ছিলেন। অধিকাংশের বয়স ছিল ১৪ থেকে ২৫ বছরের মধ্যে। গুলিতে কর্নিয়া, স্ক্লেরা ও চোখের অন্যান্য অংশ গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। অনেকেই হয়রানির আশঙ্কায় হাসপাতালে ভর্তির সময় ভুল পরিচয় ব্যবহার করেছিলেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
কারওয়ান বাজারে গুলিবিদ্ধ হয়ে দৃষ্টিশক্তি হারানো সাব্বির আহমাদ বলেন, আহত হওয়ার পর তাকে মৃত ভেবে লাশের সঙ্গে ফেলে রাখা হয়েছিল। তিনি জানান, দৃষ্টিশক্তি হারালেও দেশের প্রতি তার অঙ্গীকার অটুট রয়েছে। তবে সরকারি ভাতায় সংসার চালানো কঠিন হওয়ায় যোগ্যতা অনুযায়ী কর্মসংস্থানের দাবি জানান তিনি।
বাড্ডায় গুলিবিদ্ধ দুর্জয় আহমেদ বলেন, গুলিটি এখনো তার মাথার ভেতরে রয়েছে। তার ভাষ্য, দুই চোখের দৃষ্টিশক্তি হারানো ব্যক্তিদের চিকিৎসা, চলাফেরা ও দৈনন্দিন জীবন অত্যন্ত কষ্টকর হয়ে পড়েছে। তিনি পুনর্বাসন ও সম্মান নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
মিরপুরে গুলিবিদ্ধ মিজানুর রহমান জানান, পাঁচটি অস্ত্রোপচারের পরও তার দৃষ্টিশক্তি ফেরেনি। আগে গাড়িচালক হিসেবে মাসে ৩২ হাজার টাকা আয় করলেও বর্তমানে সরকারি ২০ হাজার টাকার ভাতায় চিকিৎসা ও সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।
মোহাম্মদপুরের নিলু পারভিন, যিনি দুই চোখের দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছেন, বলেন, তিনি এখন দৈনন্দিন কাজও স্বাভাবিকভাবে করতে পারেন না। পরিবারের দায়িত্ব অনেক বেড়ে গেছে এবং স্বামীকে রিকশা চালানোর পাশাপাশি সংসারের কাজও সামলাতে হচ্ছে।
জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট কর্নেল কামাল আকবর বলেন, জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট হাসপাতালের তথ্য অনুযায়ী প্রায় এক হাজার আহতের মধ্যে ৪৪ জন উভয় চোখের দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছেন। তার দাবি, অধিকাংশ আহত ব্যক্তি ৭.৬২ মিমি বুলেটে এবং বাকিরা ছররা গুলিতে আহত হয়েছেন।
অনেকের চোখে এখনো ছররা রয়ে গেছে।
তিনি বলেন, দৃষ্টিশক্তি হারানো ব্যক্তিদের পুনর্বাসন, চিকিৎসা এবং রাষ্ট্রীয় সম্মান নিশ্চিত করা এখন জরুরি। একই সঙ্গে আহতরা ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়ন এবং তাদের ত্যাগের যথাযথ স্বীকৃতি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
প্রয়োজনে এটিকে আরও সংক্ষিপ্ত, নিরপেক্ষ বা সংবাদ সংস্থার (wire style) ভাষায়ও রূপান্তর করে দিতে পারি।
