২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের দিনটিকে নিজের রাজনৈতিক জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হিসেবে বর্ণনা করেছেন বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি জানান, শেখ হাসিনার দেশত্যাগের খবর শোনার পর সেই মুহূর্তটিকে তাঁদের কাছে একদম ‘অলৌকিক’ মনে হয়েছিল।
এক সাক্ষাৎকারে ৫ আগস্টের স্মৃতিচারণ করে মির্জা ফখরুল বলেন, সেদিন সকালে তিনি বাসায় ছিলেন এবং আন্দোলনরত ছাত্রদের সঙ্গে বিএনপির যোগাযোগ চলছিল। বেলা ১২টার দিকে সেনাপ্রধান তাঁকে ফোন করে জানান যে প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগ করতে চান এবং সে বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনার জন্য রাজনৈতিক দলগুলোর নেতাদের ডেকেছেন। পরবর্তীতে সেনাবাহিনীর পাঠানো গাড়িতে করে তিনি সেনাসদরে পৌঁছান।
সেনাসদরে যাওয়ার আগে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে লন্ডনে যোগাযোগ করে দলের অবস্থান নির্ধারণ করেন মির্জা ফখরুল। সেনাসদরের বৈঠকে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। সেখানে নতুন সরকারের রূপরেখা নিয়ে আলোচনার একপর্যায়ে জাতীয় সরকারের প্রস্তাব উঠলেও বিএনপি অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষে জোরালো অবস্থান নেয়। ওই বৈঠকের মাঝেই সেনাপ্রধান তাঁদের নিশ্চিত করেন যে শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে চলে গেছেন।
মির্জা ফখরুল জানান, ১৭ বছর ধরে রাজপথে লড়াই করার পর সেই খবর শোনার মুহূর্তের উত্তেজনা ভাষায় বর্ণনা করার মতো ছিল না। সেনাসদরের বৈঠক শেষে বঙ্গভবনে যাওয়ার পথে রাজপথে বিপুল মানুষের উচ্ছ্বাস ও আনন্দের দৃশ্য তিনি প্রত্যক্ষ করেন। রাস্তায় সাধারণ মানুষের প্রচণ্ড ভিড় থাকায় সেনাসদর থেকে বঙ্গভবন পৌঁছাতে তাঁদের প্রায় তিন ঘণ্টা সময় লেগে যায়।
বঙ্গভবনে পৌঁছানোর পর আলোচনায় মির্জা ফখরুল প্রথমেই বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার অবিলম্বে মুক্তির দাবি জানান, যা সেনা প্রধানসহ উপস্থিত সকলে সমর্থন করেন। বঙ্গভবনের ওই বৈঠকে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি, তিন বাহিনীর প্রধান, সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং ড. আসিফ নজরুলসহ অন্য বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
