গ্যাস সংকট মোকাবিলায় জরুরি ভিত্তিতে মহেশখালীর এলএনজি টার্মিনালের যান্ত্রিক ত্রুটি দূর করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। একই সঙ্গে তিনি তিতাস, বিবিয়ানা ও অন্যান্য প্রধান গ্যাসক্ষেত্রে বিনিয়োগ বাড়িয়ে দেশীয় গ্যাস উৎপাদন বৃদ্ধিরও দাবি জানান।
সোমবার রাতে রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, আমদানিকৃত এলএনজির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতার কারণে গ্যাস সংকট আরও তীব্র হচ্ছে। নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধান ও উৎপাদনে সরকারের কার্যকর পরিকল্পনা বা বিনিয়োগ চোখে পড়ছে না। দুর্নীতি কমিয়ে দেশীয় গ্যাস উত্তোলনে অর্থ বিনিয়োগেরও আহ্বান জানান তিনি।
গোলাম পরওয়ার অভিযোগ করেন, জুলাই অভ্যুত্থানের পর জনগণ নতুন সরকারের কাছে পরিবর্তনের আশা করেছিল। কিন্তু পাঁচ মাস পেরিয়ে গেলেও মানুষের দুর্ভোগ, ক্ষোভ ও বঞ্চনা বেড়েছে। লুটপাট, চাঁদাবাজি, দুর্নীতি এবং দলীয়করণের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, এসব কারণে সাধারণ মানুষ হতাশ হয়ে পড়েছে।
তিনি জানান, দেশে বর্তমানে দৈনিক প্রায় ৩৮০ কোটি ঘনফুট গ্যাসের চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ হচ্ছে ২১৫ কোটি ঘনফুটেরও কম। ফলে প্রতিদিন প্রায় ১৬৫ কোটি ঘনফুট গ্যাসের ঘাটতি তৈরি হচ্ছে। এর প্রভাবে ঘরোয়া রান্নাবান্না, শিল্প উৎপাদন এবং সিএনজি স্টেশনগুলোতে ব্যাপক ভোগান্তি দেখা দিয়েছে।
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত নিয়েও সমালোচনা করে তিনি বলেন, ২০২৬ সালের জুনে বিদ্যুতের দাম গড়ে ১৬ দশমিক ৬৮ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। একই সঙ্গে গ্রাহকদের ভুতুড়ে বিলের অভিযোগও বাড়ছে। ব্যবহার না করলেও অনেক গ্রাহকের কাছে দ্বিগুণ-তিনগুণ বিল আসছে বলে তিনি দাবি করেন।
দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রসঙ্গ তুলে গোলাম পরওয়ার বলেন, কাঁচা মরিচ, চাল, ডাল ও আলুসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে গেছে। সরকারের উচিত এসব সংকট সমাধানে গুরুত্ব দেওয়া।
প্রেস ব্রিফিংয়ে সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেন অভিযোগ করেন, প্রিপেইড বিদ্যুৎ মিটারে সার্ভিস চার্জ ও ডিমান্ড চার্জ আদায় এক ধরনের ‘ডিজিটাল চাঁদাবাজি’। তিনি ক্যাপাসিটি চার্জের নামে কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎকেন্দ্রে অর্থ অপচয় বন্ধ এবং বিদ্যুৎ বিভাগের দুর্নীতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
তিনি আরও বলেন, পর্যাপ্ত গ্যাস অনুসন্ধান না হওয়ায় বর্তমান সংকট তৈরি হয়েছে। দ্রুত জাতীয় জ্বালানি নীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান ও উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।
প্রেস ব্রিফিংয়ে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আবদুল হালিম, অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য জাহিদুর রহমান ও আতাউর রহমান সরকার উপস্থিত ছিলেন।







