খাবার, পানীয় ও বাতাসের মাধ্যমে অতি ক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণা বা মাইক্রোপ্লাস্টিক প্রতিনিয়ত মানুষের শরীরে প্রবেশ করছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্তমান সময়ে এটি পুরোপুরি এড়িয়ে চলা প্রায় অসম্ভব। তবে দৈনন্দিন জীবনের কিছু অভ্যাস বদলালে শরীরে মাইক্রোপ্লাস্টিক প্রবেশের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব।
গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত মাইক্রোপ্লাস্টিক শরীরে প্রবেশ করলে বিভিন্ন অঙ্গের ক্ষতি, ডিএনএর পরিবর্তন, প্রজনন সক্ষমতা হ্রাস এবং কোষের কার্যকারিতায় নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। এমনকি এটি দীর্ঘমেয়াদে নানা জটিল স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণ হতে পারে।
পরিবেশবিদদের মতে, মাইক্রোপ্লাস্টিক শুধু খাবার বা পানীয় নয়, বাতাসের মাধ্যমে শ্বাস-প্রশ্বাসে এবং কিছু ক্ষেত্রে ত্বকের সংস্পর্শেও শরীরে প্রবেশ করতে পারে। তাই সচেতনতা ও কিছু সহজ অভ্যাস গড়ে তোলাই হতে পারে ঝুঁকি কমানোর কার্যকর উপায়।
১. সব সময় ফিল্টার করা পানি পান করুন
টিউবওয়েল বা অন্যান্য উৎসের পানিতেও মাইক্রোপ্লাস্টিক থাকতে পারে। তাই সম্ভব হলে সব সময় ফিল্টার করা পানি পান করুন। উন্নতমানের পানি ফিল্টার অনেক ক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণা আটকে রাখতে সক্ষম।
২. প্যাকেটজাত ও অতিপ্রক্রিয়াজাত খাবার কম খান। প্লাস্টিকের মোড়ক বা পাত্রে সংরক্ষিত খাবারে প্লাস্টিক কণা মিশে যেতে পারে, বিশেষ করে গরম খাবারের ক্ষেত্রে। তাই ঘরে তৈরি তাজা খাবার খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন।
৩. কাচ বা ধাতব পাত্র ব্যবহার করুন
খাবার সংরক্ষণ বা পরিবেশনের জন্য প্লাস্টিকের পরিবর্তে কাচ কিংবা স্টেইনলেস স্টিলের পাত্র ব্যবহার করুন। এতে খাবারে মাইক্রোপ্লাস্টিক মেশার সম্ভাবনা কমে।
৪. একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক এড়িয়ে চলুন
প্লাস্টিকের গ্লাস, স্ট্র, চামচ, প্লেট, ট্রে ও প্যাকেটজাত সামগ্রী যতটা সম্ভব কম ব্যবহার করুন। এগুলো থেকেই তুলনামূলক বেশি মাইক্রোপ্লাস্টিক ছড়িয়ে পড়ে।
৫. পরিবেশবান্ধব ব্যাগ ও প্রাকৃতিক তন্তুর পোশাক ব্যবহার করুন প্লাস্টিকের ব্যাগের বদলে চট বা সুতির ব্যাগ ব্যবহার করুন। একই সঙ্গে সুতি, উল বা লিনেনের পোশাক ব্যবহার করার চেষ্টা করুন। পলিয়েস্টারসহ কৃত্রিম তন্তুর কাপড় থেকে ক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণা ছড়াতে পারে।
৬. সামুদ্রিক মাছ খাওয়ার ক্ষেত্রে সচেতন থাকুন
সমুদ্রে জমে থাকা প্লাস্টিক বর্জ্যের কারণে অনেক সামুদ্রিক মাছ ও প্রাণীর দেহে মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া যায়। এসব মাছ খাওয়ার মাধ্যমে প্লাস্টিক মানুষের শরীরেও প্রবেশ করতে পারে।
৭. প্রসাধনী ও ব্যক্তিগত পরিচর্যার পণ্য কেনার আগে লেবেল পড়ুন টুথপেস্ট, স্ক্রাব, ফেসওয়াশ বা অন্যান্য প্রসাধনীতে পলিথিন, পলিপ্রপিলিন বা অনুরূপ প্লাস্টিক উপাদান রয়েছে কি না তা লেবেল দেখে নিশ্চিত করুন। এমন উপাদান থাকলে সেসব পণ্য ব্যবহার এড়িয়ে চলাই ভালো।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান সময়ে মাইক্রোপ্লাস্টিক থেকে শতভাগ মুক্ত থাকা সম্ভব না হলেও সচেতন জীবনযাপন, প্লাস্টিকের ব্যবহার কমানো এবং নিরাপদ খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলার মাধ্যমে এর স্বাস্থ্যঝুঁকি অনেকটাই কমিয়ে আনা সম্ভব।







