ফেনীর মহিপালে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনে টমটম চালক মো. সবুজ হত্যা মামলার প্রধান আসামি ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নিজাম উদ্দিন হাজারীর দেখা মিলেছে ভারতের দিল্লির বিলাসবহুল ‘লেমন ট্রি প্রিমিয়ার’ (Lemon Tree Premier) হোটেলে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর বিলাসী জীবনের ছবি ভাইরাল হওয়ার পর বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে।
ফেসবুকসহ বিভিন্ন মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবিতে দেখা যায়, পলাতক সাবেক এই সংসদ সদস্য দিল্লির ওই পাঁচতারকা হোটেলে চেক-ইন করছেন। অন্য একটি ছবিতে তাঁকে হোটেলের ভেতরে আরামদায়কভাবে টেবিলে বসে থাকতে দেখা যায়। ফেনীতে তাঁর সাধারণ কর্মীরা যখন চরম অর্থকষ্টে দিনাতিপাত করছেন, তখন ওপারে তাঁর এমন বিলাসবহুল জীবনযাপন নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র ক্ষোভ ও সমালোচনার ঝড় উঠেছে।
এর আগে, ফেনীর মহিপালে ছাত্র-জনতার আন্দোলনে টমটম চালক সবুজ হত্যা মামলায় নিজাম উদ্দিন হাজারীসহ পলাতক ৭১ জন আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত। ফেনী সদর আমলি আদালতের বিচারক সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ হাসান এই আদেশ দেন।
মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট মহিপালে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনে অংশ নিয়েছিলেন টমটম চালক সবুজ। ওই দিন আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের নির্বিচার গুলিবর্ষণে তিনি নিহত হন। পরবর্তীতে সবুজের ভাই মো. ইউছুফ বাদী হয়ে ফেনী মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
উক্ত মামলায় ফেনী-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য নিজাম উদ্দিন হাজারী, ফেনী সদর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান শুসেন চন্দ্র শীল, সাবেক পৌর মেয়র নজরুল ইসলাম স্বপন মিয়াজীসহ ৬৫ জনের নাম উল্লেখ করা হয়। এ ছাড়া আরও ৩০০ থেকে ৪০০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছিল। মামলার পর থেকেই নিজাম হাজারীসহ অন্যান্য আসামিরা গ্রেপ্তার এড়াতে আত্মগোপনে রয়েছেন।
