নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার চৌমুহনী পৌরসভার কিসমত করিমপুর এলাকায় একটি আবাসিক ভবনে অভিযান চালিয়ে পর্নোগ্রাফিক ভিডিও তৈরির অভিযোগে স্বামী-স্ত্রী ও তাঁদের দুই ছেলেসহ একই পরিবারের চারজন এবং তাঁদের এক সহযোগীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে রাবেয়া হাসপাতালের পাশের ওই ভবনে এই অভিযান চালানো হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন মো. সালাউদ্দিন, তাঁর স্ত্রী পারভিন আক্তার, তাঁদের দুই ছেলে ফাহাদ হাসান ও আরাফাত ইয়াসিন এবং তাঁদের সহযোগী আবদুর রহিম। তাঁদের স্থায়ী বাড়ি কুমিল্লার হোমনা উপজেলায় হলেও তাঁরা দীর্ঘদিন ধরে নোয়াখালীতে ভাড়া বাসায় বসবাস করে এই অপরাধ চক্রটি চালাচ্ছিলেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।
পুলিশ জানায়, চক্রটির হাত থেকে বিভিন্ন জেলা থেকে আসা চার তরুণীকে উদ্ধার করা হয়েছে, যাঁদের চাকরি দেওয়ার লোভ দেখিয়ে সেখানে আটকে রাখা হয়েছিল। উদ্ধার হওয়া তরুণীদের মধ্যে একজন গোপনে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে সাহায্য চাইলে পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে ওই ভবনে অভিযান পরিচালনা করে।
ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ ভিডিও ধারণের ক্যামেরা, ছয়টি মুঠোফোন, একটি চাবুক, ছুরি, কাঁচি এবং পর্নোগ্রাফি ব্যবসার মাধ্যমে উপার্জিত ১ লাখ ৯৮ হাজার টাকা জব্দ করেছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের আজ শুক্রবার বিকেলে নোয়াখালীর চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হলে শুনানি শেষে আদালত তাঁদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী এক তরুণী পার্লারে চাকরির আশ্বাসে গত ২ আগস্ট চৌমুহনীতে আসেন। সেখানে আসার পর তাঁর মুঠোফোন কেড়ে নিয়ে জোরপূর্বক যৌন কার্যকলাপে বাধ্য করা হয় এবং পর্নোগ্রাফিক ভিডিও ধারণ করা হয়। ওই বাসায় আরও কয়েকজন তরুণীকে একইভাবে আটকে রেখে প্রতিবাদ করলে চাবুক ও অস্ত্র দিয়ে শারীরিক নির্যাতন করা হতো।
বেগমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহীনুজ্জামান জানান, এই চক্রটি অনলাইনের একটি অ্যাপের মাধ্যমে ধারণকৃত পর্ন ভিডিও প্রচার করে মোটা অঙ্কের অর্থ উপার্জন করে আসছিল। গ্রেপ্তারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামিরা এই অপরাধের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। উদ্ধার হওয়া এক তরুণীর করা পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনের মামলায় তাঁদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।







