চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোলে ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার নিয়োগ প্রক্রিয়ায় ব্যাপক অনিয়ম, দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ উঠেছে। এর প্রতিবাদে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়সহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছেন পরীক্ষায় অকৃতকার্য প্রার্থী ও স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা। গতকাল সোমবার (১০ আগস্ট) সকাল ১০টার দিকে নাচোল উপজেলা পরিষদ চত্বরে এ ঘটনা ঘটে। এতে সরকারি দপ্তরগুলোর স্বাভাবিক দাপ্তরিক কার্যক্রম পুরোপুরি ব্যাহত হয় এবং পুরো এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার নিয়োগ পরীক্ষার চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশের পর থেকেই অসন্তোষ দানা বাঁধে। এর জেরে অকৃতকার্য প্রার্থী এবং বিএনপি, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের শতাধিক নেতাকর্মী উপজেলা পরিষদ চত্বরে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। তাদের অভিযোগ, প্রকৃত মেধা ও যোগ্যতাকে সম্পূর্ণ উপেক্ষা করে মোটা অঙ্কের আর্থিক লেনদেন এবং রাজনৈতিক বিবেচনায় নির্দিষ্ট কিছু প্রার্থীকে উত্তীর্ণ করা হয়েছে।
বিক্ষোভ কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবু তাহের খোকন, পৌর বিএনপির সহসভাপতি আমানুল্লাহ আল মাসুদ, সাবেক সভাপতি মোসাদ্দেকুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক দুরুল হোদা এবং যুবদলের সাধারণ সম্পাদক আজীমসহ স্থানীয় বিভিন্ন অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা। সমাবেশে বক্তব্যকালে নেতারা অভিযোগ করেন, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় জঘন্য অনিয়মের মাধ্যমে রাজনৈতিকভাবে পক্ষপাতদুষ্ট ব্যক্তিদের সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে। তারা অবিলম্বে এই বিতর্কিত নিয়োগ কমিটির সদস্যদের অপসারণ, প্রকাশিত ত্রুটিপূর্ণ ফলাফল বাতিল এবং নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত যোগ্য প্রার্থীদের নিয়োগের জোর দাবি জানান।
বিক্ষোভ চলাকালীন একপর্যায়ে আন্দোলনকারীরা চরম উত্তেজিত হয়ে পড়েন এবং বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জোরপূর্বক কার্যালয় থেকে বের করে দেন। এরপর তারা একে একে দপ্তরের মূল প্রবেশপথে তালা ঝুলিয়ে দিয়ে অবরুদ্ধ করে ফেলেন।
ঘটনার বিষয়ে নাচোল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুকোমল চন্দ্র দেবনাথ জানান, দুপুরের দিকে বিএনপির নেতাকর্মীরা তীব্র আন্দোলন গড়ে তুলে ইউএনও কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে দেন। উদ্ভূত পরিস্থিতির মুখে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে চলে আসে। তবে পরবর্তীতে তালা খোলা হয়েছে কি না, তা ওসির জানা নেই উল্লেখ করে তিনি এ বিষয়ে ইউএনওর সাথে কথা বলার পরামর্শ দেন। অন্যদিকে, উদ্ভূত পরিস্থিতির বিষয়ে বক্তব্য জানতে নাচোল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) প্রিয়াংকা দাসের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।







