নরসিংদীর পলাশ উপজেলায় এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই পক্ষের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের জেরে গুলিবিদ্ধ হওয়া ছাত্রদল নেতা ইব্রাহিম আল মাসুম (৪০) মারা গেছেন। নয় দিন ধরে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে থাকার পর গতকাল সোমবার সকাল ৯টার দিকে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। নিহত মাসুম পলাশ উপজেলার ডাঙ্গা ইউনিয়নের হাসনহাটা গ্রামের মমিন হাজীর ছেলে এবং তিনি ডাঙ্গা ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক ছিলেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১ আগস্ট রাতে ডাঙ্গা ইউনিয়নের হাসনহাটা ফকিরবাড়ি এলাকায় আধিপত্য বিস্তার ও আগের বিরোধের জেরে বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষ ও হামলার ঘটনা ঘটে। ওই সময় গুলিতে পেটে গুরুতর আঘাত পান ইব্রাহিম আল মাসুম। এ ঘটনায় ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি মামুন আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক জয়নাল আবেদীনসহ অন্তত ১০ জন আহত হন।
ঘটনার নেপথ্য কারণ হিসেবে স্থানীয়রা জানান, ডাঙ্গা-পাঁচদোনা সড়কের ডাঙ্গা হাইস্কুলের সামনে মাটি ভরাটের কাজকে কেন্দ্র করে প্রায় চার মাস আগে ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি ভিপি রোমান গ্রুপের সঙ্গে ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ইব্রাহিম আল মাসুম গ্রুপের সংঘর্ষ হয়। ওই ঘটনায় পলাশ থানায় একটি মামলাও রয়েছে। ওই পুরোনো বিরোধের জের ধরে গত ১ আগস্ট সন্ধ্যায় রোমান গ্রুপের পক্ষ থেকে অপর পক্ষকে ‘আওয়ামী ফ্যাসিস্ট’ আখ্যা দিয়ে একটি ঝটিকা মিছিল বের করা হয়।
মিছিলের পর হাসনহাটা ফকিরবাড়ি এলাকার একটি মুদি দোকানে মাসুম, মামুন ও জয়নালসহ কয়েকজন অবস্থান করছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, এ সময় ভিপি রোমান গ্রুপের সানি, সবুজ ও জায়দুলসহ ১০-১২ জনের একটি সশস্ত্র দল দেশি-বিদেশি অস্ত্র নিয়ে তাদের ওপর আকস্মিক হামলা চালায়। এতে ইব্রাহিম আল মাসুম পেটে গুলিবিদ্ধ হন এবং তাঁকে বাঁচাতে গিয়ে স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি মামুন আহমেদ ও সাধারণ সম্পাদক জয়নাল আবেদীনসহ আরও ১০ জন গুরুতর আহত হন।
হামলার পর আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরবর্তীতে আশঙ্কাজনক অবস্থায় গুলিবিদ্ধ মাসুমকে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার তাঁর মৃত্যু হয়। পলাশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহেদ আল মামুন জানান, এই হামলার ঘটনায় ৪ আগস্ট নিহত মাসুমের বোনজামাই বাদী হয়ে ৩৭ জনের নাম উল্লেখ করে থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং মাসুমের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে এলাকায় নতুন কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা যাতে না ঘটে, সে বিষয়ে পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
