শিক্ষকদের অবসর ভাতা ও কল্যাণ ট্রাস্টের প্রায় ৭ হাজার কোটি টাকা বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেন, এ কারণে দীর্ঘদিন ধরে অনেক শিক্ষক তাদের প্রাপ্য অবসর ভাতা ও অন্যান্য সুবিধার অর্থ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।
মঙ্গলবার রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রের উইন্ডি টাউন হলে ‘ভঙ্গুর অর্থনীতি পুনর্গঠন এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন’ শীর্ষক এক সেশনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বিগত সরকার ১৫ আগস্ট পালনের নামে হাজার হাজার কোটি টাকা ব্যয় করেছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন খাত থেকে অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশ ও জনগণের প্রয়োজনকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দিনরাত কাজ করছেন। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বাসস্থানসহ দেশের প্রতিটি খাতের উন্নয়নে সরকার সমান গুরুত্ব দিচ্ছে।
দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শুধু সমালোচনা না করে দেশের স্বার্থে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের অংশ হিসেবে মানুষের মধ্যে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নে তারা নিরলসভাবে কাজ করছেন। টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে শিক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে। সরকার এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে বিভিন্ন পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।
তিনি আরও বলেন, টেকসই উন্নয়নের অন্যতম প্রধান ভিত্তি হলো মানবসম্পদ উন্নয়ন। আর দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতে শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই।অনুষ্ঠানে এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের সাবেক মহাপরিচালক ড. সুলতান হাফিজ রহমান সভাপতিত্ব করেন। পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক এসডিজি বাস্তবায়ন-সংক্রান্ত মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন কার্যক্রম ও পরিকল্পনা তুলে ধরেন।পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি বলেন, জনগণের কল্যাণ নিশ্চিত করতে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঠিক তথ্য ও উপাত্ত সংগ্রহ করে উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সরকার নানা উদ্যোগ নিয়েছে। মানুষের সমস্যা সমাধানেও সরকার কাজ করছে।
তিনি বলেন, সঠিক নীতি ও পরিকল্পনা প্রণয়নের জন্য নির্ভরযোগ্য তথ্য-উপাত্ত অপরিহার্য। দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ও কার্যকর পরিকল্পনা গ্রহণে সঠিক পরিসংখ্যানের কোনো বিকল্প নেই।
