মক্কা চুক্তিকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া বিভিন্ন জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে এক গুরুত্বপূর্ণ ও ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ইরান। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাগাই এবং তুরস্কে অবস্থিত ইরানি দূতাবাস থেকে প্রকাশিত পৃথক বিবৃতিতে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যে সম্পাদিত এই নতুন চুক্তিটি ইরানের বিরুদ্ধে পরিচালিত হচ্ছে—এমন উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনো যৌক্তিক কারণ নেই। এই তিন দেশের সঙ্গেই ইরানের গভীর ধর্মীয়, ঐতিহাসিক এবং সভ্যতাগত সুদৃঢ় সম্পর্ক রয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, ইরানের দুই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মুসলিম প্রতিবেশী দেশ তুরস্ক ও পাকিস্তানের জনগণের সঙ্গে ইরানের বন্ধুত্বের ইতিহাস দীর্ঘদিনের। একই সঙ্গে ইরান, পাকিস্তান ও তুরস্কের জনগণের পারস্পরিক সাংস্কৃতিক বন্ধনও অত্যন্ত নিবিড়। ফলে এই দেশগুলোর মধ্যকার যেকোনো ধরনের সহযোগিতাপূর্ণ চুক্তিকে ইরান ইতিবাচক দৃষ্টিতেই দেখছে।
ইরানের কূটনৈতিক মহল মনে করে, এই উদ্যোগ মূলত আঞ্চলিক দেশগুলোর নিরাপত্তা ও ভূ-রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গিতে একটি বড় ধরণের পরিবর্তনের গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত। দীর্ঘদিন ধরে এই অঞ্চলের দেশগুলো তাদের নিরাপত্তার জন্য যুক্তরাষ্ট্র কিংবা বাইরের পরাশক্তিগুলোর ওপর যে নির্ভরতা দেখিয়ে আসছিল, বর্তমান বাস্তবতায় তারা যে আর সেটি করতে পারছে না—এ চুক্তি তারই একটি স্পষ্ট উপলব্ধি।
বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, বাইরের বড় শক্তির ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে এই অঞ্চলের দেশগুলো এখন নিজেদের স্বকীয় সক্ষমতা ও নতুন দৃষ্টিভঙ্গির ভিত্তিতে একটি স্বনির্ভর ও বিকল্প আঞ্চলিক নিরাপত্তা কাঠামো গড়ে তোলার চেষ্টা করছে। ফলে এই মক্কা চুক্তির মূল লক্ষ্যই হলো বাইরের যেকোনো ধরণের অনাকাঙ্ক্ষিত হস্তক্ষেপ, নেতিবাচক প্রভাব ও ধ্বংসাত্মক তৎপরতা থেকে নিজেদের স্বাধীন ও সুরক্ষিত রাখা, যা সামগ্রিকভাবে পুরো অঞ্চলের স্থিতিশীলতার জন্য মঙ্গলজনক।







