ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার প্রধান ‘নির্দেশদাতা ও পরিকল্পনাকারী’ হিসেবে অভিযুক্ত ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর এবং পল্লবী থানা যুবলীগের সভাপতি তাজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পীর বিরুদ্ধে পরিচয় জালিয়াতির এক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিতে এবং বিচার এড়াতে তিনি নিজের নাম, বাবার নাম, এমনকি জন্মতারিখ পর্যন্ত সম্পূর্ণ বদলে ফেলেছেন।
সংশ্লিষ্ট নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, জুলাই বিপ্লবের পর তাজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পী গোপনে সীমান্ত পাড়ি দিয়ে বর্তমানে ভারতে অবস্থান করছেন। সেখানে স্থায়ীভাবে বসবাসের উদ্দেশ্যে দেশটির নাগরিকত্ব পাওয়ার জন্য জোর চেষ্টা চালাচ্ছেন তিনি। বাংলাদেশি পাসপোর্টে তাঁর নাম ‘তাজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পী’ এবং বাবার নাম ‘নজরুল ইসলাম চৌধুরী’ উল্লেখ থাকলেও, ভারতে গিয়ে তিনি জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে ‘মহিউদ্দিন চৌধুরী’ নামে নতুন পরিচয় ধারণ করেছেন এবং বাবার নাম দিয়েছেন ‘নজরুল উদ্দিন চৌধুরী’। এই ভুয়া তথ্যের ভিত্তিতে তিনি ইতিমধ্যে ভারতের জাতীয় পরিচয়পত্র বা ‘আধার কার্ড’ও সংগ্রহ করেছেন।
এই ঘটনার প্রেক্ষাপটে দুই দেশের কূটনৈতিক ও নিরাপত্তা মহলে নতুন করে চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে। সম্প্রতি ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’ (R&AW)-এর প্রধানের বাংলাদেশ সফর এবং দ্বিপক্ষীয় উচ্চপর্যায়ের একাধিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়া সত্ত্বেও, হাদি হত্যাকাণ্ডের মূল খুনি ও পরিকল্পনাকারীরা এখনও ভারতেই বহাল তবিয়তে রয়ে গেছেন। অভিযোগ উঠেছে, এই অপরাধীদের ফিরিয়ে দেওয়ার বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ না নিয়ে উল্টো ভারত সরকারের কিছু মহল তাদের পরোক্ষভাবে আশ্রয় ও সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছে।
উল্লেখ্য, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম জনপ্রিয় ছাত্রনেতা ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদিকে নৃশংসভাবে হত্যার পর থেকেই পলাতক রয়েছেন যুবলীগ নেতা বাপ্পী। বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যে ভারতের কাছে হাদি হত্যাকাণ্ডে জড়িত সমস্ত আসামির প্রত্যর্পণ ও হস্তান্তরের জন্য আনুষ্ঠানিক নথিপত্র পাঠানো হয়েছে। তবে খুনি বাপ্পীর এই আন্তর্জাতিক পরিচয় জালিয়াতি এবং ভারতের মাটিতে অবস্থান করার বিষয়টি প্রকাশ্যে আসায় ক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা অনতিবিলম্বে তাকে দেশে ফিরিয়ে এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
