জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার পোগলদিঘা ইউনিয়ন ছাত্রদলের দুই প্রভাবশালী নেতা একযোগে দল থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন। সরকারের ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহকারী পদে কাঙ্ক্ষিত চাকরির সুযোগ না পেয়ে ক্ষোভ ও অভিমানে তাঁরা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে দলীয় ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
গতকাল মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) দুপুরে পোগলদিঘা ইউনিয়ন ছাত্রদলের সহসভাপতি মেহেদী হাসান রিংকু ও দপ্তর সম্পাদক মো. ইবনে হাসান নিজেদের ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে আনুষ্ঠানিক পদত্যাগপত্র প্রকাশ করে এই ঘোষণা দেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁদের এই পদত্যাগের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে বেশ চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
বিগত ২০২২ সাল থেকে দপ্তরের দায়িত্ব পালন করে আসা ইবনে হাসান তাঁর পদত্যাগপত্রে অবশ্য ব্যক্তিগত ও পারিবারিক কারণ উল্লেখ করেছেন। অন্যদিকে, ২০০৯ সাল থেকে দীর্ঘ ধরে দলের সঙ্গে যুক্ত থাকা জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি মেহেদী হাসান রিংকু সরাসরি মাঠপর্যায়ের কর্মীদের অবমূল্যায়ন এবং রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে নানাভাবে বাধা দেয়ার গুরুতর অভিযোগ এনেছেন।
নিজের এই আকস্মিক সিদ্ধান্তের বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে মেহেদী হাসান রিংকু জানান, দলের চরম দুঃসময়েও তাঁরা জীবন বাজি রেখে রাজপথে সক্রিয় ছিলেন। কিন্তু বর্তমান সময়ে এসে দুঃসময়ের ত্যাগী কর্মীদের যথাযথ মূল্যায়ন না হওয়া এবং স্বাধীনভাবে কাজ করার পরিবেশ নষ্ট হয়ে যাওয়ার কারণেই তিনি স্বেচ্ছায় রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন।
এ বিষয়ে সরিষাবাড়ী উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব মাসুদ রানা চপল জানান, ফেসবুকের মাধ্যমে বিষয়টি তাঁদের নজরে এসেছে এবং তাঁরা এ ব্যাপারে বিস্তারিত খোঁজ নিচ্ছেন। তবে পদত্যাগী নেতাদের পক্ষ থেকে এখনো সাংগঠনিক নিয়ম মেনে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো লিখিত পদত্যাগপত্র জমা দেওয়া হয়নি।
অন্যদিকে, জামালপুর জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম পুরো বিষয়টির নেপথ্য কারণ স্পষ্ট করে বলেন, ওই দুই নেতা ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহকারী পদে নিয়োগের জন্য আবেদন করেছিলেন। সেখানে চাকরি না পাওয়ার এক ধরণের সাময়িক ক্ষোভ থেকেই হয়তো তাঁরা ফেসবুকে আবেগী হয়ে পদত্যাগের কথা লিখেছেন। তিনি আরও মনে করিয়ে দেন যে, নিয়ম অনুযায়ী পদত্যাগপত্র জেলা ছাত্রদলের সভাপতি বা সাধারণ সম্পাদকের কাছে জমা দেওয়ার কথা থাকলেও তা করা হয়নি। আপাতত জেলা ছাত্রদল তাঁদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলে ভুল বোঝাবুঝি দূর করাসহ বিষয়টি দ্রুত সমাধানের চেষ্টা চালাচ্ছে।
