গাজা উপত্যকায় ফিলিস্তিনিদের ওপর চালানো ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর বর্বর গণহত্যা ও স্থল অভিযানে অংশ নেওয়া মার্কিন বংশোদ্ভূত এক ইসরাইলি সেনা আত্মহত্যা করেছেন। গাজায় যুদ্ধক্ষেত্র থেকে ফিরে আসার পর থেকেই তিনি ‘পোস্ট-ট্রমাটিক স্ট্রেস ডিসঅর্ডার’ (পিটিএসডি) সহ অত্যন্ত গুরুতর মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন বলে তাঁর বন্ধু ও নিকটজনরা নিশ্চিত করেছেন।
আত্মহত্যাকারী ওই ইসরাইলি সেনার নাম উইলিয়াম শাকিন (২৫)। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের ঘটনার পরপরই তিনি তাঁর চলমান বিশ্ববিদ্যালয় জীবন ও পড়াশোনা মাঝপথে ছেড়ে দিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে চলে যান। সেখানে তিনি সরাসরি ইসরাইলি সেনাবাহিনীতে যোগ দেন এবং পরবর্তীতে গাজায় ইসরাইলি বাহিনীর নৃশংস স্থল আক্রমণের সময় দেশটির বিশেষায়িত গোলানি ব্রিগেডের ১৩তম ব্যাটালিয়নে অত্যন্ত সক্রিয়ভাবে দায়িত্ব পালন করেন।
উইলিয়াম শাকিনের বন্ধু ও পরিচিতরা জানান, অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় ফিলিস্তিনিদের ওপর রক্তক্ষয়ী দমন-পীড়ন ও যুদ্ধাভিযান শেষ করে ইসরাইলে ফেরার পর থেকেই তাঁর মানসিক স্বাস্থ্যের দ্রুত অবনতি ঘটতে থাকে। গাজার ভয়াবহ যুদ্ধক্ষেত্রের নিষ্ঠুরতা ও ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে চালানো অসম যুদ্ধে একের পর এক সহযোদ্ধাদের চোখের সামনে নিহত হতে দেখে তিনি চরমভাবে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন, যা পরবর্তীতে তাঁকে আত্মহত্যার দিকে ঠেলে দেয়।
ইসরাইলের প্রথম সারির প্রভাবশালী সংবাদপত্র ‘হারেৎজ’-এর প্রকাশিত এক চাঞ্চল্যকর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলমান ২০২৬ সালের শুরু থেকে এ পর্যন্ত অন্তত ১৮ জন ইসরাইলি সেনা মানসিক অবসাদ ও যুদ্ধজনিত ক্ষোভ সামলাতে না পেরে আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন। একই সাথে গাজা ও লেবানন সীমান্তে যুদ্ধরত ইসরাইলি সেনাদের মধ্যে পিটিএসডি বা যুদ্ধ-পরবর্তী মানসিক ট্রমার হার আগের তুলনায় প্রায় ৪০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর ভেতরের চরম মানসিক বিপর্যয়কে স্পষ্ট করে তুলছে।







