বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠার ৪৭ বছরের দীর্ঘ ইতিহাসে শীর্ষ দুই পদ, অর্থাৎ কেন্দ্রীয় সভাপতি বা সাধারণ সম্পাদক হিসেবে আজ পর্যন্ত কোনো নারী নেতৃত্ব উঠে আসেনি। ১৯৭৯ সালের ১ জানুয়ারি প্রতিষ্ঠার পর থেকে সংগঠনটি অসংখ্য কেন্দ্রীয় কমিটি পেলেও সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী এই দুটি পদ এবং ‘সুপার ফাইভ’ সবসময় পুরুষ নেতাদের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে ছিল। ফলে দীর্ঘ এই সময়েও ছাত্রদলে নারীর প্রকৃত রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন কতটুকু অর্জিত হয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
ছাত্রদলের মূল দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) নিজেই চার দশকেরও বেশি সময় ধরে বেগম খালেদা জিয়ার মতো একজন প্রসংশনীয় ও প্রভাবশালী নারী নেত্রীর অধীনে পরিচালিত হয়ে আসছে। এমনকি বর্তমান রাজনীতিতেও জাইমা রহমানের মতো তরুণ ও সম্ভাবনাময় নারী নেতৃত্বকে বিএনপি রাজনীতিতে নিয়ে আসার বিষয়ে ব্যাপকভাবে আলোচনা চলছে। তবে মূল দলের এই নারীকেন্দ্রিক নেতৃত্বের ইতিবাচক চিত্র দীর্ঘ ৪৭ বছরেও ছাত্রদলের রাজনীতিতে কোনো প্রতিফলন ঘটাতে পারেনি।
ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, বিভিন্ন সময়ে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটিতে সহ-সভাপতি, সম্পাদক কিংবা কার্যকরী সদস্য পদে নারীদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও নারী নেত্রীদের মতে, এসব পদায়ন মূলত সংখ্যামূলক কোটা পূরণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। নীতিনির্ধারণী সিদ্ধান্ত বা দলীয় মূল পরিচালনার ক্ষমতা সবসময়ই পুরুষ নেতাদের হাতে কেন্দ্রীভূত থেকেছে, যা নারীদের প্রান্তিক করে রেখেছে।
বর্তমান রাজনীতি ও সমাজের প্রেক্ষাপটে দেশের মোট জনগোষ্ঠীর অর্ধেক অংশের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে ছাত্রদলের শীর্ষ নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে নারীদের যুক্ত করা এখন সময়ের বড় দাবি। সাধারণ নেতাকর্মী ও নারী ছাত্রনেত্রীরা আশা করছেন, আগামী দিনের কমিটিতে পুরুষতান্ত্রিক এই বৃত্ত ভেঙে যোগ্য নারী নেতাদের কেন্দ্রীয় সভাপতি বা সাধারণ সম্পাদকের মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে নিয়ে আসা হবে।







