শরীয়তপুরের জাজিরায় দুই পক্ষের তীব্র সংঘর্ষে ককটেল বিস্ফোরণে মান্নান সরদার (৭০) নামে এক বৃদ্ধ নিহত ও একজনের হাত বিচ্ছিন্ন হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এই নৃশংস ঘটনার পর এলাকাটিতে নতুন করে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।
স্থানী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, জাজিরা উপজেলার মুলনা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রেজাউল শিকদার এবং উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য তমিজ খাঁর সমর্থকদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে সংঘাত চলছিল। এর জেরে গত সোমবার সন্ধ্যায় দুই পক্ষ শতাধিক ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে সংঘর্ষে জড়ায়। সংঘর্ষে অন্তত ১০ জন আহত হন এবং গুরুতর আহত মান্নান সরদার পরে মারা যান।
ঘটনার পর নিহত মান্নানের ছেলে দিদার সরদার বাদী হয়ে জাজিরা থানায় ৮৭ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ২৫-৩০ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন। পুলিশ অভিযান চালিয়ে ইতিমধ্যে এজাহারভুক্ত আট আসামিকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছে।
তবে মামলা দায়েরের পর পরিস্থিতি শান্ত হওয়ার বদলে আরও ভয়াবহ রূপ নেয়। অভিযোগ উঠেছে, বুধবার রাতে বিএনপির নেতা রেজাউল শিকদারের নেতৃত্বে প্রতিপক্ষের অর্ধশত বাড়িতে বোমা হামলা, ভাঙচুর ও ব্যাপক লুটপাট চালানো হয়। ঘরবাড়ির দরজা-জানালা ভেঙে এবং ছাদ ফুটো করে স্বর্ণালংকার, নগদ টাকা ও গবাদিপশু লুট করে নিয়ে যাওয়া হয়।
ক্ষতিগ্রস্ত ভুক্তভোগীদের দাবি, অনেক নিরপরাধ ও প্রবাসী পরিবারের ওপরও হামলা চালিয়ে প্রতিটি পরিবার থেকে পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত চাঁদা দাবি করা হয়েছে। চাঁদা দিতে অস্বীকার করায় ও আতঙ্কের সৃষ্টি করতে এলাকা জুড়ে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে তছনছ করা হয়েছে বসতঘর।
যদিও এই হামলা ও লুটপাটের সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বিএনপি নেতা রেজাউল শিকদার। তাঁর দাবি, প্রতিপক্ষের লোকজন নিজেদের মালামাল নিজেরাই সরিয়ে নিয়ে এখন তাঁদের ওপর দোষ চাপানোর চেষ্টা করছে।
ঘটনার বিবরণ দিয়ে জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (নড়িয়া সার্কেল) মুহাম্মদ মহিউদ্দিন মিরাজ জানান, হত্যা মামলায় ইতোমধ্যে আটজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং বাকিদের ধরতে অভিযান চলছে। একইসঙ্গে হামলা ও লুটপাট প্রতিরোধে পুলিশ তৎপর রয়েছে এবং লিখিত অভিযোগ পেলে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।







