জামায়াত-শিবিরের বিরুদ্ধে কঠোর ভাষায় হুঁশিয়ারি দিয়েছেন প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী এবং ডাকসুর ভিপি হয়ে ভিপি হয়ে হাসিনাকে মা ঢাকা নুরুল হক নূর।
শনিবার (১৫ আগস্ট) সন্ধ্যায় নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে কুষ্টিয়ায় গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীদের ওপর জামায়াত-শিবিরের হামলার অভিযোগ তুলে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
নূরের দাবি, শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ সমাবেশে রামদা, হকিস্টিক, ছুরি ও চাপাতি নিয়ে হামলা চালানো হয়েছে। এতে কুষ্টিয়া জেলা গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল খালেক, ছাত্র অধিকার পরিষদের কুষ্টিয়া সরকারি কলেজ শাখার সভাপতি সোহান আহমেদসহ প্রায় অর্ধশত নেতাকর্মী আহত হয়েছেন বলে তিনি দাবি করেন।
ফেসবুক পোস্টে নূর জামায়াত-শিবিরকে ‘রগকাটা’ আখ্যা দিয়ে বলেন, তারা আবারও তাদের পুরোনো স্বরূপে ফিরেছে। একই সঙ্গে তিনি দলটির উদ্দেশে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। তাঁর ভাষ্য, বাড়াবাড়ি করলে তাদের ‘আজীবন গুপ্ত থাকার ব্যবস্থা’ করা হবে।
এদিকে কুষ্টিয়ায় জামায়াত ও গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা ও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করেই নূরের এই বক্তব্য সামনে এসেছে।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, গণঅধিকার পরিষদকে নিয়ে মুফতি আমির হামজার বক্তব্যকে কেন্দ্র করে কুষ্টিয়া ছয় রাস্তার মোড়ে বিক্ষোভ সমাবেশ করছিল গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীরা।
এ সময় আমির হামজার গাড়ি ছয় রাস্তার মোড়ে পৌঁছালে তার গাড়িতে অতর্কিত হামলা করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। এরপর উভয় পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এতে জামায়াতে ইসলামীর সাতজন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। তারা কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এ বিষয়ে সংসদ সদস্য আমির হামজা বলেন, তিনি ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ওই দিকে একটি কর্মসূচিতে ছিলেন। রাস্তাঘাট ও কালভার্ট কোথায় কী করতে হবে, সে বিষয়ে তথ্য নিচ্ছিলেন। আগামী ২০ তারিখে মন্ত্রণালয়ে যাওয়ার জন্য এসব তথ্য সংগ্রহ করছিলেন তিনি।
আমির হামজা বলেন, এ সময় খবর পান, তাকে এবং তার বাবা-মাকে তুলে গালাগালি করা হচ্ছে। পরে তিনি সদর থানার ওসিকে ফোন দেন। পুলিশের গাড়ি সামনে এবং তাঁর গাড়ি পেছনে থাকা অবস্থায় অতর্কিতভাবে তাঁর গাড়িতে লাঠি ও হকিস্টিক দিয়ে হামলা করা হয়।
তিনি আরও বলেন, গাড়ির সামনে বসে থাকা তাঁর চাচার পা কেটে যায় এবং তিনি নিজেও মাথায় আঘাতপ্রাপ্ত হন।
অন্যদিকে, নূরের বক্তব্যকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনেও নানা আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই বলছেন, হাসিনাকে মা ডাকা নূর বিএনপির কাছ থেকে ক্ষমতার চেয়ার পেয়ে হাসিনার মতো ফ্যাসিবাদি ভাষা ব্যবহার এবং উগ্র আচরণ করছেন।
এর আগেও নূর জামায়াত-শিবিরের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিয়ে কঠোর বক্তব্য দিয়েছেন। গত ১৪ আগস্ট রাতেও জামায়াত-শিবিরকে হুমকি দিয়ে ফেসবুকে পোস্ট করেন বলে জানা গেছে।
পরপর দুই দিনের এসব বক্তব্যের কারণে নুরুল হক নূরের রাজনৈতিক অবস্থান, বক্তব্যের ভাষা এবং জামায়াত-শিবিরের সঙ্গে তাঁর বর্তমান বিরোধ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে।







