ইতালিপ্রবাসী এক ব্যক্তির ফেসবুক পোস্টে বিএনপি ও দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে ‘খাম্বা তারেক’ হিসেবে আখ্যায়িত করে অশালীন মন্তব্যের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ওই প্রবাসীর নির্দোষ বাবাকে শাসানোর একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় পর্যায়ে ব্যাপক বিতর্ক ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযোগ ওঠা ওই প্রবাসীর নাম মো. মনির হোসেন। তিনি নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার আমিরগঞ্জ ইউনিয়নের দক্ষিণ মির্জানগর মধ্যপাড়া এলাকার হারাধন মোল্লার ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে ইতালিতে বসবাস করছেন।
স্থানীয় সূত্র থেকে জানা যায়, সম্প্রতি ইতালিপ্রবাসী মনির হোসেন ফেসবুকে একটি পোস্ট দেন, যেখানে বিএনপি ও দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে ‘খাম্বা তারেক’ বলে সম্বোধন করা হয় এবং নানা অশালীন মন্তব্য করা হয়। পোস্টটির ভিডিও ও স্ক্রিনশট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।
তারেক রহমানকে নিয়ে এই মন্তব্যের জেরে আমিরগঞ্জ ইউনিয়নের যুবদল নেতা পাকির ইসলাম প্রবাসী মনিরের বাড়িতে যান। সেখানে প্রবাসী ছেলের কারণে তার বৃদ্ধ বাবা হারাধন মোল্লাকে শাসানোর একটি দৃশ্য ধারণ করা হয়, যা পরবর্তীতে ফেসবুকে ভাইরাল হয়ে যায়।
ভাইরাল হওয়া ওই ভিডিওতে দেখা যায়, যুবদল নেতা পাকির ইসলাম হারাধন মোল্লাকে হুমকি দিয়ে বলছেন—তার ছেলে যেন অবিলম্বে ফেসবুক থেকে তারেক রহমানকে ‘খাম্বা তারেক’ বলা সংক্রান্ত ও অন্যান্য অশালীন মন্তব্য মুছে ফেলে। এমনকি ছেলে ভুল করলে ছেলের জায়গায় বাবারই বিচার করা হবে বলে শাসাতে শোনা যায় তাকে।
ভিডিওটি গত ১৪ আগস্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর সাধারণ মানুষ ও নেটিজেনদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। বিদেশে অবস্থানরত প্রাপ্তবয়স্ক ছেলের মন্তব্য বা আচরণের জন্য দেশে থাকা বাবাকে এভাবে হেনস্তা ও হুমকি দেওয়া নিয়ে মানুষ নানা প্রশ্ন তোলেন।
দেশজুড়ে সমালোচনা ও বিতর্ক তীব্র আকার ধারণ করলে যুবদল নেতা পাকির ইসলাম তার ভুল বুঝতে পেরে অবস্থান বদলাতে বাধ্য হন। শনিবার বিকেলে তিনি আরেকটি ভিডিও প্রকাশ করেন, যেখানে তাকে প্রবাসীর বাবা হারাধন মোল্লার কাছে গিয়ে সরাসরি দুঃখ প্রকাশ করতে ও ক্ষমা চাইতে দেখা যায়।
দুঃখ প্রকাশের ওই নতুন ভিডিওটিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর আলোচনা কিছুটা থিতিয়ে আসে। তবে প্রবাসীর ওই ফেসবুক পোস্টের বিষয়ে প্রবাসীর পক্ষ থেকে বা পুরো ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। একই সাথে ভাইরাল ভিডিওটির পুঙ্খানুপুঙ্খ সত্যতা ও প্রেক্ষাপট স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি বলে জানা গেছে।







