চলমান জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সরকারের দেওয়া আহ্বানের জবাবে চার দফা প্রস্তাব তুলে ধরেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। একই সাথে এই প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়নের অগ্রগতি আগামী ৯০ দিনের মধ্যে জাতির সামনে প্রকাশ করার আহ্বান জানিয়েছে দলটি।
উদ্ভূত পরিস্থিতি ও জ্বালানি সংকট নিয়ে রোববার (১৬ আগস্ট) সন্ধ্যায় আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে দলের অবস্থান ও এই প্রস্তাবসমূহ তুলে ধরেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিঞা গোলাম পরওয়ার।
সংবাদ সম্মেলনে মিঞা গোলাম পরওয়ার অভিযোগ করেন, সরকার নিজেদের নীতিগত ব্যর্থতা ঢাকতেই বিরোধী দলের ওপর দায় চাপানোর চেষ্টা করছে। অথচ জ্বালানি সংকট সমাধানের জন্য প্রায় তিন মাস আগেই বিরোধী দলের পক্ষ থেকে ১০ দফা সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব সরকারের কাছে জমা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেসব সুপারিশ বাস্তবায়নের উদ্যোগ না নিয়ে বিরোধী দলকে উদ্দেশ্য করে অসংবেদনশীল মন্তব্য করা অত্যন্ত অনভিপ্রেত ও দুঃখজনক।
বিরোধী দলগুলোর বিগত আন্দোলনের ধারাবাহিকতা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া এক বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল। তিনি উল্লেখ করেন, প্রধানমন্ত্রী এতদিন দেশে না থাকায় জামায়াতে ইসলামীর সংগ্রাম ও ত্যাগ চোখে দেখেননি। দেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনে বহুজনের প্রাণহানি ও ফাঁসিতে ঝুলতে হওয়ার দৃশ্য পুরো বিশ্ব দেখলেও বর্তমান সরকার তা উপেক্ষা করছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
জামায়াত নেতা স্পষ্ট করেন যে, বিরোধী দল হিসেবে তারা সরকারকে ব্যর্থ দেখতে চায় না। কারণ সরকার ব্যর্থ হলে দেশ ও জনগণই চরম ভোগান্তির শিকার হয়। ফলে রাজনৈতিক মতপার্থক্য পাশে রেখে জ্বালানি সংকট নিরসনে স্বচ্ছতা ও দায়িত্বশীলতার প্রতিযোগিতায় নামার জন্য তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।
সংবাদ সম্মেলন থেকে সংকট উত্তরণে চার দফা সংস্কার প্রস্তাব পেশ করা হয়। এর মধ্যে প্রথম প্রস্তাব হিসেবে সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনকে (স্টেকহোল্ডার) নিয়ে একটি ‘ন্যাশনাল ইমার্জেন্সি এনার্জি সেল’ গঠনের আহ্বান জানানো হয়। এছাড়া নির্দিষ্ট আর্থিক সীমার মধ্যে জরুরি ওয়ার্কওভার ও সংস্কারকাজের অনুমোদন দেওয়ার পূর্ণ ক্ষমতা রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান পেট্রোবাংলা ও বাপেক্সের পরিচালনা পর্ষদকে দেওয়ার সুপারিশ করা হয়।
বাকি প্রস্তাবগুলোর মধ্যে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র (বেজ লোড প্ল্যান্ট) কবে নাগাদ পূর্ণাঙ্গ উৎপাদনে আসবে এবং এর বিদ্যুতের ট্যারিফ কত হবে, তা জনগণের কাছে স্পষ্ট করার দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি জরুরি দরপত্র মূল্যায়নের জন্য একটি স্থায়ী মূল্যায়ন ব্যবস্থা তৈরি করা এবং অগ্রাধিকারভিত্তিক প্রকল্পগুলোর গতি তদারকিতে একক তদারকি সেল গঠন করে কোন ফাইল কোথায় কত দিন আটকে আছে, তা নিয়মিত প্রকাশ্যে আনার প্রস্তাব দেওয়া হয়।
পরিকাঠামোগত প্রকল্পের বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে মিঞা গোলাম পরওয়ার বলেন, চট্টগ্রামের মহেশখালী ও পটুয়াখালীর পায়রায় ভাসমান টার্মিনাল নির্মাণের পরিকল্পনা কতটুকু বাস্তবায়িত হয়েছে, সে বিষয়ে জনগণ অন্ধকারে রয়েছে। অন্যদিকে খুলনার খালিশপুরে ৮০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার রূপসা বিদ্যুৎকেন্দ্রটির নির্মাণকাজ শেষ হওয়া সত্ত্বেও তা এখনো বাণিজ্যিক উৎপাদনে যেতে সক্ষম হয়নি।
