বেলারুশ ও ইউক্রেন সীমান্তের কাছে অন্তত ১০টি গোপন সামরিক ড্রোন ঘাঁটি নির্মাণ করেছে রাশিয়া। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ‘দ্য টেলিগ্রাম’-এর একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে উপগ্রহ চিত্র এবং ফাঁস হওয়া গোপন নথি বিশ্লেষণ করে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে জানা যায়, এসব নতুন ঘাঁটিতে মোট ৫৯টি উন্নত উৎক্ষেপণ ব্যবস্থা (লঞ্চ রেল) স্থাপন করা হয়েছে। সাবেক সামরিক ঘাঁটি, বেসামরিক বিমানবন্দর রূপান্তর করে এবং গ্রামাঞ্চলের খোলা জায়গায় এসব নতুন লঞ্চ প্যাড ও কাঠামো গড়ে তুলেছে মস্কো।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই অবকাঠামোগুলো থেকে রাশিয়া আরও শক্তিশালী এবং দীর্ঘপাল্লার আত্মঘাতী ড্রোন উৎক্ষেপণ করতে পারবে। আধুনিকীকৃত এসব ড্রোনের মধ্যে ‘গেরান-৪’ এবং ‘গেরান-৫’ নামের নতুন সংস্করণের ড্রোনও রয়েছে, যা প্রতি ঘণ্টায় দ্রুত গতিতে উড়ে প্রায় ১,০০০ কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুতে ৯০০ কেজির মতো বিস্ফোরক বহন করে আঘাত হানতে সক্ষম।
নতুন এই ঘাঁটিগুলো কেবল ইউক্রেন নয়, বরং ন্যাটোর সদস্য রাষ্ট্রগুলোর জন্যও দীর্ঘমেয়াদী সামরিক হুমকি সৃষ্টি করেছে। এসব ঘাঁটি থেকে ছোঁড়া ড্রোন পোল্যান্ডের রাজধানী ওয়ারশ পর্যন্ত অনায়াসে পৌঁছে যেতে পারে। পশ্চিমা গোয়েন্দারা আশঙ্কা করছেন, ভবিষ্যতে সংঘাত তীব্র হলে পোল্যান্ডের মতো ন্যাটো দেশগুলোর গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্য করে মস্কো হামলা চালাতে পারে।
ইতিমধ্যেই চিহ্নিত ১০টি ঘাঁটির মধ্যে অন্তত ৭টি থেকে ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভ সহ বিভিন্ন অঞ্চলে সরাসরি হামলা চালানো হয়েছে। সীমান্ত এলাকা থেকে কম দূরত্বে থেকে গণআকাশ হামলা চালিয়ে ইউক্রেনের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে ব্যাহত করতে এসব ঘাঁটি ব্যবহার করছে রুশ বাহিনী।
ড্রোন গোয়েন্দা সংস্থা ‘ড্রোনসেক’-এর বিশ্লেষণ অনুযায়ী, একাধিক ঘাঁটিতে এক সাথে সহস্রাধিক ড্রোন মজুত রাখার মতো বিশাল সক্ষমতা রয়েছে। বার্ষিক প্রায় ৬,০০০ ইউনিট ড্রোন প্রস্তুতকারী আলাবুগা অর্থনৈতিক অঞ্চলসহ দেশের বিভিন্ন অস্ত্র কারখানা থেকে প্রতিনিয়ত এসব ঘাঁটিতে রসদ সরবরাহ করা হচ্ছে।
এমতাবস্থায় ন্যাটো জানিয়েছে, তারা ড্রোন যুদ্ধকৌশলের বিষয়টি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করছে। নিজেদের সুরক্ষায় এবং মিত্র দেশগুলোর প্রতিটি ইঞ্চি ভূখণ্ড রক্ষায় ন্যাটো প্রস্তুত রয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে সংস্থাটি।
