সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য প্রস্তাবিত নবম পে স্কেলে মূল বেতন সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ করেছে গঠিত কমিটি। নতুন এই বেতন কাঠামোতে ১ম থেকে ২০তম—সব গ্রেডের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্যই বেতন বৃদ্ধির প্রস্তাব রাখা হয়েছে।
প্রস্তাবিত এই বেতন কাঠামোটি দুই ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। পরিকল্পনার অংশ হিসেবে প্রথম বছরে কেবল মূল বেতন বাড়ানো হবে এবং দ্বিতীয় বছরে বাড়িভাড়াসহ অন্যান্য আনুষঙ্গিক ভাতা কার্যকর করা হবে।
সচিব কমিটির সব সদস্য ইতোমধ্যে নবম পে স্কেলের চূড়ান্ত প্রতিবেদনে স্বাক্ষর করেছেন। এতে করে সরকারি চাকরিজীবীদের বহুল প্রতীক্ষিত নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে প্রকাশিত ‘জনগণের সরকারের ১৮০ দিন’ শীর্ষক ই-বুকে পে স্কেল সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে জানানো হয়, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা বাবদ ৮৯ হাজার ৮৩৬ কোটি টাকা এবং পেনশনসহ মোট ১ লাখ ৪১ হাজার ৪৩৪ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের জুলাই মাসে সাবেক অর্থসচিব জাকির আহমেদ খানকে প্রধান করে ২৩ সদস্যের নবম জাতীয় বেতন কমিশন গঠন করা হয়েছিল। উক্ত কমিশন পর্যালোচনা শেষে চলতি বছরের ২১ জানুয়ারি তাদের মূল প্রতিবেদন সরকারের কাছে জমা দেয়।
পূর্ববর্তী ৮ম বেতন কমিশনের প্রায় ১১ বছর পর গঠিত এই কমিশন কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে বেতন-ভাতা ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ বৃদ্ধির সুপারিশ করেছিল। কমিশনের সুপারিশে সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮,২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০,০০০ টাকা এবং সর্বোচ্চ মূল বেতন ৭৮,০০০ টাকা থেকে ১,৬০,০০০ টাকা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়।
