২৪-এর জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সাংবাদিকদের অবদান নিয়ে আয়োজিত ‘সাংবাদিকদের চোখে জুলাই’ স্মৃতিচারণা অনুষ্ঠানে এক অদ্ভুত ও দায়িত্বজ্ঞানহীন ভুলের ঘটনা ঘটেছে। অনুষ্ঠানে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট হবিগঞ্জে নিহত হওয়া শহীদ সাংবাদিক সোহেল আখঞ্জির পরিবর্তে জীবিত সাংবাদিক মিজানুর রহমান সোহেলের ছবি প্রদর্শন করা হয়।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) তত্ত্বাবধানে এবং ডেমোক্রেটিক জার্নালিস্ট অ্যালায়েন্স (ডিজেএ) কর্তৃক আয়োজিত ওই অনুষ্ঠানের শুরুতে একটি তথ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। সেখানে শহীদের তালিকায় নাম থাকা সোহেল আখঞ্জির বর্ণনার সময় জলজ্যান্ত ও সুপরিচিত অনলাইন সাংবাদিক মিজানুর রহমান সোহেলের ছবি দেখানো হলে ব্যাপক বিভ্রান্তি ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
নিহত হওয়ার তালিকার নিজের ছবি দেখে আতঙ্কে পড়ে যান সাংবাদিক মিজানুর রহমান সোহেল। তিনি জানান, সকাল থেকেই পরিচিতজন ও সহকর্মীরা উদ্বিগ্ন হয়ে তাঁর জীবিত থাকার সত্যতা নিশ্চিত করতে ক্রমাগত ফোন দিতে থাকেন। চরম বিরক্তি প্রকাশ করে তিনি প্রশ্ন তোলেন, এমন একটি দায়িত্বজ্ঞানহীন ভুলের দায় কে নেবে এবং কার অনুমোদনে প্রকাশ্যে এই ছবি প্রদর্শন করা হলো।
ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর এনসিপির পক্ষ থেকে বিষয়টিকে অসাবধানতাবশত ঘটে যাওয়া ভুল বলে দাবি করা হয়েছে। এনসিপির মিডিয়া উপকমিটির সদস্য ইয়াসির আরাফাত কালবেলাকে জানান, অনিচ্ছাকৃত এই ভুলের জন্য তাঁরা আন্তরিকভাবে দুঃখপ্রকাশ করছেন।
পরবর্তীতে এনসিপির মিডিয়া সেল থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি বিবৃতি দিয়ে জানানো হয়, মূলত দুই জনের নামে মিল থাকার কারণে তথ্যচিত্রে এই ভুলটি ঘটেছে। দেশের অনলাইন ও ডিজিটাল সাংবাদিকতা জগতের পরিচিত মুখ মিজানুর রহমান সোহেলসহ সংশ্লিষ্ট সকলের কাছে এই অনিচ্ছাকৃত ভুলের জন্য প্রাতিষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা প্রার্থনা করেছে সংগঠনটি।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় হবিগঞ্জের বানিয়াচং থানার সামনে সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে গুলিতে প্রাণ হারান দৈনিক লোকালয় বার্তার প্রতিবেদক সোহেল আখঞ্জি।
