বাংলাদেশে তীব্র গ্যাস সংকটের কারণে টেক্সটাইল, ডাইং ও ফিনিশিং কারখানাসহ বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠানে উৎপাদন প্রায় বন্ধের উপক্রম হয়েছে। রোববার দুপুর থেকে কিছু এলাকায় গ্যাসের চাপ সামান্য বাড়লেও ময়মনসিংহের ভালুকা ও গাজীপুরের শ্রীপুরের মতো শিল্পাঞ্চলগুলোতে পরিস্থিতি এখনও স্বাভাবিক হয়নি।
শিল্পমালিকরা গত ২০ দিন ধরে চলা এই গ্যাস সংকটকে নজিরবিহীন ও অস্বাভাবিক হিসেবে বর্ণনা করছেন। উৎপাদন ব্যাহত হওয়া, সময়মতো পণ্য পাঠাতে না পারা, অতিরিক্ত এয়ার শিপমেন্ট খরচ এবং ভবিষ্যতের বৈদেশিক ক্রয়াদেশ হাতছাড়া হওয়ার ঝুঁকিতে বিপুল আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন তারা।
জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, দেশে প্রতিদিন ৩,৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ রয়েছে সর্বোচ্চ ২,৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট। এই ঘাটতি পূরণে মূলত আমদানি করা এলএনজির ওপর নির্ভর করতে হয়, যার একটি ভাসমান টার্মিনালে সম্প্রতি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটায় সরবরাহ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়।
তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সংকটের মূল কারণ কেবল টার্মিনালের ত্রুটি নয়, বরং দেশের পুরোনো গ্যাসক্ষেত্রগুলো থেকে উৎপাদন কমে যাওয়া এবং নতুন অনুসন্ধান না করা। ২০১৮ সাল থেকে আমদানিকৃত এলএনজির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা বৃদ্ধি পাওয়ায় এবং মধ্যপ্রাচ্যে ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে এই সরবরাহ ব্যবস্থা আরও ভঙ্গুর হয়ে পড়েছে।
অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছেন, চলমান এই জ্বালানি সংকটের তাৎক্ষণিক কোনো সমাধান নেই এবং টেকসই রূপান্তরের জন্য অন্তত দেড় থেকে দুই বছর সময় লাগতে পারে। পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকার অভ্যন্তরীণ গ্যাস অনুসন্ধান, সৌরবিদ্যুৎ ও কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের দিকে জোর দিচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা সংকট মোকাবিলায় দেশীয় গ্যাসক্ষেত্রের উৎপাদন বাড়ানো, ভোলার গ্যাস দ্রুত জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করা এবং শিল্পখাতে জ্বালানির দক্ষ ব্যবহারের ওপর জোর দিচ্ছেন। একই সঙ্গে বাসাবাড়ি ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানে অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা এবং প্রযুক্তিনির্ভর বিকল্প জ্বালানি ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
