নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি) সিট পরিবর্তনকে কেন্দ্র করে গভীর রাতে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের দুই গ্রুপের মধ্যে দফায় দফায় মারামারির ঘটনা ঘটেছে। সোমবার গভীর রাত থেকে মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) প্রথম প্রহর পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের আব্দুল মালেক উকিল হল ও পকেট গেট এলাকায় এই সহিংসতার ঘটনা ঘটে। এতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক এক সমন্বয়ক ও এক ছাত্রদল নেতাসহ অন্তত তিনজন আহত হয়েছেন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, রাত আনুমানিক দুইটার দিকে হলের একটি কক্ষের সিট পরিবর্তনকে কেন্দ্র করে ছাত্রদলের দুই পক্ষের কর্মীদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। পরবর্তীতে রাত তিনটার দিকে শাখা ছাত্রদলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের অনুসারীরা সংঘবদ্ধ হয়ে সিনিয়র সহসভাপতির অনুসারী আনিসুর রহমান সিফাতের ওপর হামলা চালায়। তাঁকে মারধর করে হল থেকে বের করে দেওয়া হলে তিনি পকেট গেটের দিকে চলে যান।
পরবর্তীতে পকেট গেট এলাকায় কৃষি বিভাগের শিক্ষার্থী সামিউল ইসলামের ওপর দ্বিতীয় দফায় হামলা চালানো হয়। এতে তিনি গুরুতর আহত হলে তাঁকে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ ছাড়া ঘটনা থামাতে গিয়ে হলের ভেতরে মারধরের শিকার হন সাবেক সমন্বয়ক জাহিদুল ইসলাম হাসান এবং পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত দুই সাংবাদিক হেনস্তার শিকার হন।
হামলার শিকার ছাত্রদল নেতা সিফাত অভিযোগ করে বলেন, আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের ব্যাকগ্রাউন্ডের লোকজনকে ব্যবহার করে তাঁর ওপর অন্যায়ভাবে ও পরিকল্পিতভাবে এই হামলা চালানো হয়েছে। এ বিষয়ে শাখা ছাত্রদলের সিনিয়র সহসভাপতি সাব্বির হাসান জানান, সামান্য বাগ্বিতণ্ডার মীমাংসা হওয়ার পর কেন্দ্রভিত্তিক অনুসারীরা এসে দায়িত্বরত নেতার ওপর হামলা চালিয়েছে, যা সুস্পষ্ট সাংগঠনিক শৃঙ্খলাভঙ্গ। বিষয়টি অলরেডি কেন্দ্রীয় কমিটিকে অবহিত করা হয়েছে।
তবে ঘটনার বিষয়ে বিস্তারিত জানা নেই বলে জানিয়েছেন শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক হাসিবুল হোসেন। তিনি জানান, বিষয়টি খোঁজ নিয়ে বিস্তারিত বলতে পারবেন। অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর আ ফ ম আরিফুর রহমান জানান, হল প্রশাসন ও প্রক্টরিয়াল বডি সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। আনুষ্ঠানিকভাবে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
