নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (নোবিপ্রবি) শাখা ছাত্রদলের কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করেছে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদ। দুই পক্ষের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, হল ভাঙচুর ও সাংবাদিকদের লাঞ্ছিত করার ঘটনার পর মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) সন্ধ্যায় কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছিরের নির্দেশে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। দপ্তর সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর আলম স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
এর আগে সোমবার (১৭ আগস্ট) গভীর রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মালেক উকিল হল ও পকেট গেট এলাকায় সিট পরিবর্তনকে কেন্দ্র করে শাখা ছাত্রদলের সভাপতি জাহিদ হাসান ও সাধারণ সম্পাদক হাসিবুল হোসেনের অনুসারীদের সঙ্গে সিনিয়র সহ-সভাপতি সাব্বির হাসানের অনুসারীদের দফায় দফায় সংঘর্ষ ঘটে। এতে ছাত্রকল্যাণ সম্পাদক আনিসুর রহমান সিফাতসহ অন্তত পাঁচজন আহত হন। এদের মধ্যে কৃষি বিভাগের শিক্ষার্থী সামিউল ইসলাম গুরুতর আহত হলে তাঁকে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
সহিংসতার সময় পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে দৈনিক মানবজমিনের প্রতিনিধি মাহী ছিদ্দীকী সিয়াম ও প্রতিদিনের সংবাদের প্রতিনিধি মেহেদী হাসানকে লাঞ্ছিত করেন ছাত্রদল কর্মীরা। একই সঙ্গে তাদের মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে ভিডিও ফুটেজ মুছে দেওয়া হয় এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মেসেঞ্জার তল্লাশি করা হয়। সংঘর্ষ চলাকালে পুলিশে এক বহিরাগতকে সোপর্দ করে প্রক্টরিয়াল বডি।
বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে ঘটে যাওয়া এ সহিংসতার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন প্রশাসন। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী জানান, সংঘর্ষের কারণ অনুসন্ধান ও জড়িতদের চিহ্নিত করতে ইতোমধ্যে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে আগামী তিন দিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে এবং প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে প্রয়োজনীয় কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।







