রাজধানীর একটি মাদকাসক্তি নিরাময়কেন্দ্রকে বন্দিশালা হিসেবে ব্যবহার করে বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও হক গ্রুপের কর্ণধার আদম তমিজী হককে বেআইনিভাবে আটকে রাখার চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে তৎকালীন সরকারের বিরুদ্ধে ফেসবুকে বক্তব্য দেওয়ার জেরে তাকে গ্রেফতার করা হলেও কারাগারে না পাঠিয়ে ডিবি পুলিশের সাবেক প্রধান হারুন অর রশীদের নির্দেশে ‘বীকন পয়েন্ট’ নামের ওই নিরাময়কেন্দ্রে আটকে রাখা হয়। এ ঘটনায় নিরাময়কেন্দ্রটির ভূমিকা, অবৈধ অর্থ আদায় এবং প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় অপরাধ আড়ালের নানা তথ্য বেরিয়ে এসেছে।
ঘটনাসূত্রে জানা যায়, গ্রেফতারের পর তমিজী হককে জেলহাজতে না পাঠিয়ে নিরাময়কেন্দ্রে বন্দি রেখে তার পরিবারের কাছ থেকে কয়েক দফায় মোটা অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নেওয়া হয়। পাশাপাশি নিরাময় কেন্দ্রটির একটি পুরো ফ্লোর ফাঁকা করে সেখানে তার জন্য বিশেষ খাবারের ব্যবস্থা রাখা হয়েছিল, যার বিনিময়ে প্রতিষ্ঠানটিও লাখ লাখ টাকা সার্ভিস চার্জ হিসেবে আদায় করে। একপর্যায়ে তাকে মানসিক রোগী প্রমাণ করার উদ্দেশ্যে বাইরে থেকে চিকিৎসকদের এনে সনদ দেওয়ার চাপ দেওয়া হলেও চিকিৎসকরা তাতে অস্বীকৃতি জানান। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ডিবি কর্মকর্তা ও নিরাময় কেন্দ্রের ঊর্ধ্বতনরা চিকিৎসকদের সাথে চরম দুর্ব্যবহার করেন।
নারকোটিক্সের দায়িত্বশীল সূত্রের বরাতে জানা গেছে, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উচ্চপর্যায়ের সাথে তৎকালীন ডিবি প্রধানের ঘনিষ্ঠতার কারণে পুরো বেআইনি বিষয়টি জানা সত্ত্বেও নিরাময় কেন্দ্র বা সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কোনো প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়নি। কেবল তমিজী হকই নন, রাজনৈতিক ও প্রভাবশালী ব্যক্তিবর্গের প্রভাব খাটিয়ে এসব কেন্দ্রে সম্পত্তি সংক্রান্ত বিরোধ কিংবা পারিবারিক কলহের জেরে সুস্থ মানুষকে মাদকাসক্ত সাজিয়ে আটকে রাখার একাধিক অভিযোগও রয়েছে।
এছাড়া রাজধানীর বিভিন্ন নিরাময়কেন্দ্রে চিকিৎসার নামে চরম নিপীড়ন, ভুল চিকিৎসায় রোগীর মৃত্যু ঢেকে রাখা এবং এমনকি ভেতরে নির্যাতনের মতো গুরুতর অপরাধের ঘটনাও ঘটছিল। প্রভাবশালী মহলের হাত থাকায় এবং ভুক্তভোগী পরিবারগুলো সামাজিক মর্যাদার ভয়ে মুখ না খোলায় এসব প্রতিষ্ঠান ও তাদের নেপথ্যে থাকা অপরাধীরা বরাবরই অধরা ও ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে গেছে।







