দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ায় সংসদ সদস্য মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ঠাকুরগাঁও-১ আসনটি শিগগিরই শূন্য ঘোষণা করা হবে। এরপর উপনির্বাচনের তফসিল প্রকাশ করবে নির্বাচন কমিশন। এরই মধ্যে আসনটিতে মির্জা ফখরুলের উত্তরসূরি কে হচ্ছেন, তা নিয়ে শুরু হয়েছে নানা আলোচনা-জল্পনা। স্থানীয় নেতাকর্মী ও ভোটারদের মধ্যেও এ নিয়ে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
বিএনপির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এ আসনে দলের পরবর্তী কাণ্ডারি কে হবেন, সেটিই এখন মূল প্রশ্ন। মির্জা ফখরুলের পরিবারের কেউ প্রার্থী হবেন, নাকি নতুন কোনো নেতৃত্ব সামনে আসবে—তা নিয়ে চলছে নানা হিসাব-নিকাশ। তবে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় এগিয়ে রয়েছেন মির্জা ফখরুলের ছোট ভাই ও ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সাল আমিন এবং তার বড় মেয়ে ডা. শামারুহ মির্জা।
দলীয় সূত্র জানায়, উপনির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর স্থানীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে আলোচনা করে প্রার্থী চূড়ান্ত করবেন বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বিএনপির স্থায়ী কমিটির দুই সদস্যও জানিয়েছেন, তফসিল ঘোষণার পর স্থানীয় পর্যায়ের মতামত বিবেচনায় নিয়ে দলীয় প্রার্থী নির্বাচন করা হবে।
ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির নেতাদের ভাষ্য, স্থানীয় পর্যায়ে মির্জা ফয়সাল আমিন ও শামারুহ মির্জা—দুজনেরই গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। কেন্দ্র থেকে যাকে মনোনয়ন দেওয়া হবে, তার পক্ষেই ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করবেন দলের নেতাকর্মীরা। তৃণমূলের কাছে দলীয় সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত বলে মনে করেন তারা।
স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে ধারণা রয়েছে, মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি হওয়ায় তার পরিবার বা ঘনিষ্ঠ আস্থাভাজনদের মধ্য থেকেই পরবর্তী প্রার্থী বেছে নেওয়া হতে পারে। এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছে তার সহোদর মির্জা ফয়সাল আমিন ও কন্যা শামারুহ মির্জার নাম।
ফয়সাল আমিনের দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা
ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির তৃণমূল নেতাকর্মীদের একটি বড় অংশের কাছে মির্জা ফয়সাল আমিন পরিচিত ও পরীক্ষিত নেতা। দীর্ঘদিন ধরে তিনি স্থানীয় রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। ঠাকুরগাঁও পৌরসভার সাবেক মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করার পাশাপাশি জেলা বিএনপি ও সদর উপজেলা বিএনপির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বও সামলেছেন তিনি।
দলীয় নেতাকর্মীদের মতে, রাজপথের আন্দোলন-সংগ্রামেও ফয়সাল আমিন সক্রিয় ছিলেন। সমর্থকদের দাবি, দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা এবং মাঠপর্যায়ে নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগের কারণে দলীয় ঐক্য ধরে রাখতে তিনি তুলনামূলকভাবে এগিয়ে রয়েছেন।
আলোচনায় শামারুহ মির্জাও
অন্যদিকে, প্রচলিত অর্থে সক্রিয় রাজনীতিতে সরব না থাকলেও ঠাকুরগাঁও-১ আসনে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন মির্জা ফখরুলের বড় মেয়ে ডা. শামারুহ মির্জা।
সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে তিনি স্থানীয় মানুষের মধ্যে পরিচিতি তৈরি করেছেন। বিশেষ করে করোনাকালে এবং ঠাকুরগাঁওয়ের অসচ্ছল ও দুস্থ মানুষের চিকিৎসাসেবা ও মানবিক সহায়তায় তার ভূমিকা স্থানীয়ভাবে প্রশংসিত হয়েছে। নারী ক্ষমতায়ন ও সামাজিক সচেতনতামূলক বিভিন্ন কার্যক্রমেও তার অংশগ্রহণ রয়েছে।
বিএনপির একটি অংশ মনে করছে, নতুন প্রজন্মের প্রতিনিধি হিসেবে ডা. শামারুহ মির্জাকে প্রার্থী করা হলে স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন গতি আসতে পারে। একই সঙ্গে তরুণ নেতৃত্ব বিকাশ এবং দলের আধুনিক ভাবমূর্তি আরও শক্তিশালী করতেও তার প্রার্থিতা ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছেন সমর্থকরা।
তবে শেষ পর্যন্ত ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে বিএনপির মনোনয়ন কে পাচ্ছেন, সেটি নির্ভর করবে দলীয় হাইকমান্ডের সিদ্ধান্তের ওপর। তফসিল ঘোষণার পরই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসার সম্ভাবনা রয়েছে।







