যুক্তরাজ্যের ইতিহাসে এই প্রথমবারের মতো ইরানি হ্যাকারদের সাইবার হামলায় দেশটির একটি ছোট বিদ্যুৎকেন্দ্র চার দিনের জন্য বন্ধ হয়ে গিয়েছিল বলে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ‘দ্য টেলিগ্রাফ’-এর প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। তবে কেন্দ্রটি ছোট হওয়ায় যুক্তরাজ্যের মূল জাতীয় বিদ্যুৎ গ্রিডে কোনো প্রভাব পড়েনি এবং বিদ্যুৎ সরবরাহও স্বাভাবিক ছিল।
নিরাপত্তা ও জাতীয় স্বার্থের কথা বিবেচনা করে আক্রান্ত বিদ্যুৎকেন্দ্রটির নাম ও পরিচয় প্রকাশ করা থেকে বিরত থেকেছে ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষ। কর্মকর্তাদের মতে, এই হামলার প্রধান উদ্দেশ্য হয়তো ব্যাপক ক্ষতিসাধন ছিল না, বরং স্পর্শকাতর জ্বালানি পরিকাঠামোতে অনুপ্রবেশ করে সিস্টেম বন্ধ করে দেওয়ার মতো কৌশলগত সক্ষমতা প্রদর্শন করাই ছিল তাদের মূল লক্ষ্য।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই সাইবার হামলার ঘটনাটি ঠিক সেই সময়েই ঘটেছে যখন যুক্তরাষ্ট্রের ১২টি অঙ্গরাজ্যের বেশ কিছু পানি শোধনাগার এবং নর্দমা প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্রে অনুরূপ সাইবার হামলা চালিয়েছিল ইরানভিত্তিক হ্যাকাররা। ঘটনার পরপরই যুক্তরাজ্যের ‘ন্যাশনাল সাইবার সিকিউরিটি সেন্টার’ (এনসিএসসি) পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসে এবং দেশটির শক্তি ও বিদ্যুৎ খাতের সকল প্রতিষ্ঠানগুলোকে সাইবার সুরক্ষাসংক্রান্ত বাড়তি সতর্কতা ও নির্দেশনা জারি করে।
যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রসহ একাধিক পশ্চিমা বিশ্বভিত্তিক গোয়েন্দা সংস্থা দীর্ঘদিন ধরেই সতর্ক করে আসছে যে, ইরান, রাশিয়া, চীন ও উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্র-পৃষ্ঠপোষকতাপ্রাপ্ত হ্যাকাররা নিয়মিতভাবে জাতীয় পরিকাঠামো লক্ষ্য করে সাইবার হামলা চালিয়ে আসছে। এই ঘটনায় মূল গ্রিড ক্ষতিগ্রস্ত না হলেও একটি গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় পরিকাঠামো হ্যাক করে তা পুরোপুরি অচল করে দেওয়ার ঘটনাকে যুক্তরাজ্যের জন্য এক নতুন ও গভীর নিরাপত্তা উদ্বেগ হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।
