রংপুরে একই পরিবারের চার সদস্যকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও গভীর উদ্বেগ জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।
শনিবার রাতে রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়ার একটি বাসা থেকে রংপুর জিলা স্কুলের সাবেক শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী, ছেলে প্রীয়ম চক্রবর্তী ও মেয়ে আগামী চক্রবর্তীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, শ্বাসরোধ করে তাদের হত্যা করা হয়েছে।
একটি পুরো পরিবারকে এভাবে নিশ্চিহ্ন করার ঘটনাকে অত্যন্ত বেদনাদায়ক ও ভয়াবহ আখ্যা দিয়ে জামায়াত আমির বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে দেশে সামাজিক অপরাধ, হত্যাকাণ্ড ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। ঢাকায় এক চিকিৎসকের কাছে ডলারে চাঁদা দাবি ও হামলা এবং ময়মনসিংহে এক পশুচিকিৎসকের কাছে চাঁদা দাবি করে হামলার ঘটনাও তিনি উল্লেখ করেন। এসব ঘটনা দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির গুরুতর অবনতিরই প্রমাণ বলে মন্তব্য করেন তিনি।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, রংপুরের এই হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে হবে এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। এ ধরনের অপরাধের দায় সরকারকে নিতে হবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি আরও বলেন, একের পর এক অপরাধ সংঘটিত হলেও অনেক ভুক্তভোগী ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। আদালতের দীর্ঘসূত্রতাও সাধারণ মানুষের মধ্যে হতাশা বাড়াচ্ছে।
এই পরিস্থিতিতে শুধু সরকারের ওপর নির্ভর না করে সমাজে অপরাধ প্রতিরোধে ব্যাপক সচেতনতা গড়ে তোলার আহ্বান জানান জামায়াত আমির। তিনি দল-মত নির্বিশেষে সবাইকে সামাজিক ঐক্য ও সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে জনগণকে এ ধরনের অপরাধ থেকে রক্ষায় এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে দেশবাসীর নিরাপত্তার জন্য মহান আল্লাহর সাহায্য কামনা করেন তিনি।
