বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) অনুমোদন ছাড়াই দেশের সড়কে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে প্রায় আট শতাধিক বিলাসবহুল স্লিপার বাস। কাগজপত্রে বিআরটিএ থেকে সাধারণ সিঙ্গেল ডেক এসি বাসের নিবন্ধন ও ফিটনেস সনদ নিয়ে পরবর্তীতে অবৈধভাবে সেগুলোর কাঠামো পরিবর্তন করে এসব স্লিপার বাসে রূপান্তর করা হচ্ছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, সাভার, ডেমরা ও যাত্রাবাড়ীসহ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার ওয়ার্কশপে ভারত থেকে আমদানি করা কম ধারণক্ষমতার চ্যাসিস জোড়া দিয়ে দৈঘ্য, প্রস্থ ও উচ্চতা বাড়ানো হচ্ছে। মালিকদের চাহিদা অনুযায়ী বিজ্ঞানসম্মত নিয়ম তোয়াক্কা না করেই যুক্ত করা হচ্ছে অতিরিক্ত আসন ও বেড। কারিগররা অতিরিক্ত অর্থের বিনিময়ে এসব ঝুঁকিপূর্ণ পরিবর্তনের কাজ করছেন।
যোগাযোগ বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে জানিয়েছেন, নির্দিষ্ট চ্যাসিসের ওপর অতিরিক্ত উচ্চতা ও ভারী বডি সংযোজন করায় বাসের স্বাভাবিক ভারসাম্য বা ‘সেন্ট্রয়েড’ নষ্ট হয়ে যায়। ফলে মহাসড়কে চলাচলের সময় সামান্য গতি, বাতাস বা প্রতিকূল পরিবেশে বাসগুলো তীব্র দোলনার মতো দুলতে থাকে, যা যেকোনো মুহূর্তে ভয়াবহ দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে।
এদিকে বিআরটিএ কর্মকর্তারা স্বীকার করেছেন যে, এ পর্যন্ত কোনো স্লিপার বাসের অনুমোদন দেওয়া হয়নি এবং এগুলো সম্পূর্ণ অবৈধভাবে চলছে। তবে সঠিক নজরদারি না থাকা ও সংস্থাটির কিছু অসাধু সদস্যের যোগসাজশে এমন বাসের সংখ্যা বাড়ার অভিযোগ রয়েছে। অন্যদিকে, আটক করা বাসের ডাম্পিং সংকট ও নির্ধারিত জায়গার অভাবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও কঠোর আইনি ব্যবস্থা নিতে হিমশিম খাচ্ছে।
