ঝালকাঠির রাজাপুরে কোনো প্রশাসনিক অনুমতি ছাড়া এবং বিকল্প যাতায়াতের ব্যবস্থা না করেই একটি খালের আয়রন ব্রিজের বীমসহ লোহার বিভিন্ন মালামাল খুলে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে সাতুরিয়া ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক মামুন আকনের বিরুদ্ধে। এর ফলে উত্তর তারাবুনিয়া এলাকার এদবর খালের ওপর দিয়ে চলাচলের পথ বন্ধ হয়ে চার গ্রামের শত শত মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।
ঘটনাটি ঘটে গত ২১ আগস্ট (শুক্রবার), যখন কোনো অনুমোদন ছাড়াই সেতুটি ভেঙে লোহার বীম সরিয়ে নেওয়া হচ্ছিল। বিষয়টি স্থানীয় অধিবাসীদের নজরে এলে তারা তীব্র বাধা দেন। খবর পেয়ে রাজাপুর উপজেলা এলজিইডি অফিসের প্রতিনিধি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে ব্রিজের মালামালের একটি সিজার লিস্ট বা জব্দ তালিকা তৈরি করে এবং উদ্ধার করা মালামাল স্থানীয় গ্রাম পুলিশের জিম্মায় রাখা হয়।
অভিযুক্ত মামুন আকন দাবি করেছেন, তিনি সামাজিক কাজের অংশ হিসেবে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও স্থানীয় মহিলা মেম্বারের অনুমতি নিয়ে ব্রিজের মালামাল তুলে পরিষদে জমা দেওয়ার চেষ্টা করছিলেন। তবে সাতুরিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সৈয়দ মাঈনুল হায়দার নিপু এই দাবি সম্পূর্ণ প্রত্যাখ্যান করে জানান, তিনি কাউকে মালামাল খোলার অনুমতি দেননি এবং অনিয়মতান্ত্রিকভাবে এভাবে সরকারি সম্পদ সরিয়ে নেওয়ার কোনো অধিকার মামুন আকনের নেই।
উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি রতন দেবনাথ স্পষ্ট জানিয়েছেন, সংগঠন এই ধরনের অনিয়ম সমর্থন করে না এবং অপরাধ প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। রাজাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও এলজিইডি প্রকৌশলী বিষয়টি তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। বর্তমানে বিকল্প কোনো পথ না থাকায় শিক্ষার্থী ও প্রবীণসহ সাধারণ গ্রামবাসীরা দ্রুত সেতু পুনঃস্থাপন বা চলাচলের বিকল্প ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছেন।
