ফেনীর সোনাগাজীর আলোচিত মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলায় দীর্ঘ সাত বছর পর রায় ঘোষণা করেছেন হাইকোর্ট। সোমবার (২৪ আগস্ট) দুপুরে বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার হাইকোর্ট বেঞ্চ বিচারিক আদালতের দেওয়া ১৬ জনের মৃত্যুদণ্ডের আদেশে বড় ধরনের পরিবর্তন এনে রায় দেন।
উচ্চ আদালতের রায়ে বরখাস্তকৃত অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা ও শাহাদাত হোসেন শামীমের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখা হয়। পাশাপাশি চার আসামির সাজা কমিয়ে আমৃত্যু কারাদণ্ড এবং বাকি ১০ জনকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে। রাষ্ট্রপক্ষে মামলার পরিচালনা করেন অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল এবং আসামিপক্ষে ছিলেন আইনজীবী এস এম শাহজাহান ও মোহাম্মদ শিশির মনিরসহ অন্যান্য আইনজীবীরা।
রায়ের পর আসামিপক্ষের স্বজনরা সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন এবং ন্যায়বিচারের পেছনে সহায়ক ভূমিকা রাখায় অনুসন্ধানী সাংবাদিক ইলিয়াস হোসাইনকে বিশেষ ধন্যবাদ জানিয়েছেন। অন্যদিকে রায়ে স্বস্তি প্রকাশের পাশাপাশি নিহতের মা শিরিন আক্তার বাকি তিন ছেলের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। পরিস্থিতি বিবেচনায় স্থানীয় পুলিশ নুসরাতের পরিবারের নিরাপত্তা জোরদার করার আশ্বাস দিয়েছে।
এদিকে রায়ের পর অনুসন্ধানী সাংবাদিক ইলিয়াস হোসাইন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি করেছেন, নুসরাতের মৃত্যু নিয়ে আবেগের আড়ালে অর্থ-বাণিজ্যের ঘটনা ঘটেছে এবং সে কারণে নিহতের মা ও ভাইদের আইনের আওতায় আনা উচিত। ২০১৯ সালে করা তার প্রতিবেদনে ঘটনাটিকে হত্যাকাণ্ডের পরিবর্তে আত্মহত্যার ছক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল; যেখানে খালাস পাওয়া আসামিদের মাধ্যমে তার অনুসন্ধানী তথ্যের যৌক্তিকতা প্রমাণিত হয়েছে বলে দাবি করছেন সমর্থকরা।
