আজ ২৬ আগস্ট বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। ১৯৪১ সালের এই দিনে তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের লাহোরে ইসলামী চিন্তাবিদ সাইয়্যেদ আবুল আ‘লা মওদুদীর নেতৃত্বে জামায়াতে ইসলামী প্রতিষ্ঠিত হয়। ঐতিহাসিক সূত্রগুলোতে প্রতিষ্ঠার স্থান হিসেবে লাহোরের ইসলামিয়া পার্কের কথা উল্লেখ রয়েছে।
প্রতিষ্ঠার সময় সংগঠনটির প্রথম সম্মেলনে ৭৫ জন সদস্য অংশ নিয়েছিলেন বলে বিভিন্ন ঐতিহাসিক সূত্রে উল্লেখ পাওয়া যায়। মওদুদী সংগঠনটির প্রথম আমিরের দায়িত্বও পালন করেন।
জামায়াতে ইসলামীর প্রাথমিক লক্ষ্য ছিল ইসলামী মূল্যবোধের ভিত্তিতে সমাজ সংস্কার এবং মুসলিম সমাজে ধর্মীয় ও নৈতিক চেতনার পুনর্জাগরণ ঘটানো। পরবর্তী সময়ে সংগঠনটি সামাজিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডেও সক্রিয় হয়ে ওঠে।
১৯৪৭ সালে ভারত বিভক্ত হওয়ার পর জামায়াতে ইসলামীও নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতার সঙ্গে বিভক্ত হয়ে যায়। পাকিস্তান ও ভারতে সংগঠনের পৃথক কাঠামো গড়ে ওঠে। পরবর্তীতে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান অংশের ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশে জামায়াতের সাংগঠনিক কার্যক্রম বিকশিত হয়।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে জামায়াতে ইসলামীর ভূমিকা বরাবরই বিতর্কিত ও আলোচিত। বিশেষ করে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় সংগঠনটির অবস্থান এবং পরবর্তী রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে নানা বিতর্ক রয়েছে। বিভিন্ন গবেষণা ও ঐতিহাসিক বর্ণনায় এ বিষয়ে ভিন্ন ভিন্ন মূল্যায়ন পাওয়া যায়।
স্বাধীনতার পর বাংলাদেশে জামায়াতে ইসলামী রাজনৈতিকভাবে নিষিদ্ধ ছিল। পরবর্তী সময়ে রাজনৈতিক পরিবর্তনের ধারায় দলটি আবার সাংগঠনিক ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে ফিরে আসে। বাংলাদেশের রাজনীতিতে দলটি বিভিন্ন সময় নির্বাচনে অংশ নেওয়া, জোট রাজনীতি এবং সংসদীয় কার্যক্রমে যুক্ত থাকার মাধ্যমে নিজেদের অবস্থান তৈরি করে।
দলটির আদর্শিক ভিত্তির কেন্দ্রে রয়েছে ইসলামী জীবনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার ধারণা। মওদুদীর রাজনৈতিক চিন্তায় ইসলামকে শুধু ব্যক্তিগত ধর্মীয় অনুশীলনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে সমাজ, রাষ্ট্র ও রাজনীতির ক্ষেত্রেও ইসলামী মূল্যবোধ প্রয়োগের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল।
প্রতিষ্ঠার পর ৮৫ বছর পেরিয়ে আজ ২০২৬ সালে সংগঠনটি উপমহাদেশের অন্যতম দীর্ঘস্থায়ী ইসলামী রাজনৈতিক আন্দোলন হিসেবে নিজেদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশে দলটির রাজনৈতিক প্রভাব, সাংগঠনিক কাঠামো এবং আদর্শ নিয়ে এখনও ব্যাপক আলোচনা রয়েছে।
৮৫ বছরের এই দীর্ঘ পথচলায় সংগঠনটির সঙ্গে যুক্ত হয়ে যারা জীবন, সময়, শ্রম ও অর্থ দিয়ে অবদান রেখেছেন, প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে তাদের স্মরণ করছেন দলটির নেতাকর্মীরা। পাশাপাশি সংগঠনের আদর্শ ও রাজনৈতিক লক্ষ্য বাস্তবায়নে ভবিষ্যৎ কর্মকৌশল নিয়েও নতুন করে আলোচনা হচ্ছে।
