বিতর্কিত সাবেক আইজিপি ও মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলার আসামি বেনজীর আহমেদকে দুবাইয়ে গ্রেপ্তারের পরও দেশে ফিরিয়ে আনতে না পারা এবং পরবর্তীতে তাঁর ক্যারিবীয় দ্বীপরাষ্ট্র সেন্ট লুসিয়ায় পাড়ি জমানোর খবর নিয়ে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক অঙ্গনে চরম ক্ষোভ ও সমালোচনা সৃষ্টি হয়েছে। এই ঘটনায় সরকারের কার্যকর পদক্ষেপ ও দূরদর্শিতার অভাবকে দায়ী করছেন সংশ্লিষ্টরা।
দুবাইতে বেনজীর গ্রেপ্তারের পটভূমি
দুদকের দায়ের করা দুর্নীতি ও অর্থপাচারের মামলা এবং ইন্টারপোলের রেড নোটিশের ভিত্তিতে গত ১২ জুন দুবাইয়ের একটি শপিং মল থেকে সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদকে আটক করে দুবাই পুলিশ। ওই সময় তাঁর গ্রেপ্তারের খবর দেশে ইতিবাচক আলোড়ন তোলে এবং সরকারের পক্ষ থেকে তাকে দ্রুত প্রত্যর্পণের মাধ্যমে বিচারের মুখোমুখি করার জোরালো প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল।
তবে গ্রেপ্তারের পর থেকে প্রয়োজনীয় আইনি কাগজপত্র পাঠানো ও দ্বিপক্ষীয় বন্দী প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় কূটনৈতিক পদক্ষেপ গ্রহণে সরকারের কার্যকর ও সমন্বিত উদ্যোগের অভাব স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
জামিনে মুক্তি ও সেন্ট লুসিয়ায় পাড়ি
দুবাই পুলিশের হেফাজতে কিছুদিন থাকার পর স্থানীয় আদালতের মাধ্যমে বেনজীর আহমেদ শর্তসাপেক্ষ জামিন পান। জামিনের ক্ষেত্রে পাসপোর্ট জমা রাখার বাধ্যবাধকতা থাকলেও, ছয়টি দেশের একাধিক পাসপোর্ট ও বিদেশি নাগরিকত্ব থাকায় তিনি সেই আইনি ফাঁক গলে বের হয়ে আসেন।
জামিনে মুক্ত হওয়ার পর গত ১৭ আগস্ট দুবাই থেকে বিমানে চেপে ক্যারিবীয় দ্বীপরাষ্ট্র সেন্ট লুসিয়াতে পাড়ি জমান বহুল আলোচিত এই পলাতক আসামি। সেখানে তাঁর যৌথ বিনিয়োগ ও নিজস্ব ফ্ল্যাট রয়েছে বলে জানা গেছে।
সরকারের গাফিলতি ও ব্যর্থতার অভিযোগ
বেনজীর আহমেদ দুবাই পুলিশ কর্তৃক আটক হওয়ার পর তাঁহাকে অবিলম্বে ফিরিয়ে আনতে যে পরিমাণ কূটনৈতিক চাপ সৃষ্টি করা প্রয়োজন ছিল, সেখানে বিএনপি সরকারের চরম ব্যর্থতা প্রকাশ্যে এসেছে। একাধিক দেশের পাসপোর্ট সঙ্গে রাখা একজন শীর্ষ দাগী আসামি কীভাবে আইনি নজরদারি এড়িয়ে অন্য দেশে পালিয়ে যেতে সক্ষম হলেন, তা নিয়ে এখন তীব্র প্রশ্ন উঠছে।
দুবাইয়ের আদালতে জোরালো আইনি লড়াই না চালানো এবং দ্রুত বন্দী প্রত্যর্পণ নিশ্চিত করতে না পারায় বিএনপি সরকারের সামগ্রিক নমনীয়তা ও ব্যর্থতাকেই দায়ী করছেন বিশ্লেষকরা।







