ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) বর্জ্য ব্যবস্থাপনার নিয়ন্ত্রণ ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকের অনুসারী দুই গ্রুপের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, হামলা, ভাঙচুর ও গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। ময়লা বাণিজ্যের এই সহিংস দখলাদারিত্বের কারণে গত চারদিন ধরে সিটির পাঁচটি ওয়ার্ডে বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম প্রায় সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে।
বর্জ্য স্থানান্তর কেন্দ্রে (এসটিএস) পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের ওপর সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের অতর্কিত হামলায় বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। মহল্লায় অস্ত্র নিয়ে প্রকাশ্যে মহড়া দেওয়া হচ্ছে এবং ভাঙচুর করা হচ্ছে বর্জ্য বহনের ট্রাক। আতঙ্কিত পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের কাজে নামতে নিষেধ করে চরম প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে।
হামলার শিকার এক পরিচ্ছন্নতাকর্মী জানান, “হঠাৎ অস্ত্রধারীরা এসে আমাকে দেয়ালের সাথে ধাক্কা দিয়ে পিস্তলের বাট দিয়ে মাথায় আঘাত করে। তারা বলে গেছে, কাল থেকে কাজে নামলে ফল ভালো হবে না—এটা নাকি বড় ভাইয়ের নির্দেশ।” এসটিএস সাব-কন্ট্রাক্টরের অভিযোগ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনার কাজ দখল করতে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেছে প্রতিপক্ষের ক্যাডাররা।
এই কোন্দল ও সহিংসতার জেরে সিটির ২১, ৩৭, ৩৮, ৪১ ও ৪২ নম্বর ওয়ার্ডে গত চারদিন ধরে বাসাবাড়ি ও সড়কের বর্জ্য পরিষ্কার বন্ধ রয়েছে। সঠিক সময়ে ময়লা না তোলায় মহল্লাগুলোতে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ছে এবং মারাত্মক ভোগান্তিতে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী জানান, বর্জ্য পরিষ্কার বা এসটিএসে বাধা দেওয়ার ক্ষেত্রে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো অন্যায় বরদাশত করা হবে না। জড়িতদের রাজনৈতিক পরিচয় যাই হোক না কেন, তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি। এ ঘটনায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে বাড্ডা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।







