পর্যাপ্ত সময় ও মতামত দেওয়ার সুযোগ না দিয়ে তড়িঘড়ি করে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিল পাসের উদ্যোগ নেওয়ার প্রতিবাদে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠক বর্জন করেছেন বিরোধী দলীয় সদস্যরা।
রোববার দুপুরে জাতীয় সংসদ ভবনে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান বিরোধী দলীয় মুখপাত্র ও জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার মোহাম্মদ নাজিবুর রহমান মোমেন।
তিনি বলেন, বিলটি নিয়ে মতামত দেওয়ার জন্য কমিটিকে মাত্র দুই দিন সময় দেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে কমিটিকে কার্যত ‘রাবার স্ট্যাম্পে’ পরিণত করা হয়েছে। তিনি এ উদ্যোগকে ‘সংসদীয় ফ্যাসিজম’ আখ্যা দিয়ে বলেন, এই বিল পাসের কোনো প্রক্রিয়ায় তারা অংশ নিতে চান না। এর আগে গত বৃহস্পতিবার বিলটি সংসদে উপস্থাপনের সময়ও তারা ওয়াকআউট করেছিলেন।
বৈঠক বর্জনের কারণ ব্যাখ্যা করে নাজিবুর রহমান মোমেন বলেন, সরকার ভুক্তভোগী জনগণ, বিভিন্ন অংশীজন এবং দেশি-বিদেশি মানবাধিকার সংস্থার মতামত উপেক্ষা করে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ, ২০২৫ একতরফাভাবে বাতিল করেছে।
তিনি বলেন, অধ্যাদেশ বাতিলের সময় সরকার আরও শক্তিশালী ও কার্যকর আইন প্রণয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। কিন্তু বাস্তবে সংসদে তার চেয়ে দুর্বল ও সীমিত পরিসরের একটি বিল উপস্থাপন করা হয়েছে।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, প্রস্তাবিত বিলটি জাতীয় মানবাধিকার প্রতিষ্ঠানসমূহের বৈশ্বিক জোট (GANHRI)-এর স্বীকৃত মানদণ্ড, প্যারিস প্রিন্সিপলস এবং সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক কনভেনশন ও ঘোষণার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
তিনি আরও বলেন, আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক স্থায়ী কমিটিকে মাত্র দুই কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ফলে অংশীজনদের সঙ্গে যথাযথ মতবিনিময়, বিলটি স্বাধীনভাবে পর্যালোচনা এবং প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ কার্যত সীমিত হয়ে পড়েছে।
নাজিবুর রহমান বলেন, এই পরিস্থিতিতে কমিটিকে ‘রাবার স্ট্যাম্পে’ পরিণত করার পরিবেশ তৈরি হয়েছে। তাই কমিটির বিরোধী দলীয় সদস্যরা বিলটির কোনো আলোচনা বা পর্যালোচনায় অংশ না নেওয়া এবং বিল পাসের প্রক্রিয়ার কোনো পর্যায়েই যুক্ত না থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। একই সঙ্গে তারা ভবিষ্যতে কমিটির বৈঠকেও অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে বিরোধী দলীয় সদস্য হিসেবে ব্যারিস্টার মোহাম্মদ নাজিবুর রহমান মোমেন ছাড়াও রয়েছেন আল ফারুক আব্দুল লতিফ ও আখতার হোসেন।
