আগামী ছয় মাসে প্রায় দুই লাখ বাংলাদেশি কর্মী মালয়েশিয়ায় নেওয়া হবে—বাংলাদেশের এক প্রতিমন্ত্রীর এমন বক্তব্য নাকচ করেছে দেশটির সরকার।
বুধবার মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মালয়েশিয়া সরকারের মুখপাত্র ও যোগাযোগমন্ত্রী ফাহমি ফাদজিল এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, বাংলাদেশি কর্মী নেওয়ার বিষয়ে বাংলাদেশের একজন প্রতিমন্ত্রী যে বক্তব্য দিয়েছেন, সেটি বাংলাদেশ সরকারের আনুষ্ঠানিক অবস্থান নয়। বিষয়টি নিয়ে তিনি মালয়েশিয়ার মানবসম্পদমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেছেন বলেও জানান।
ফাহমি ফাদজিল বলেন, একজন বাংলাদেশি প্রতিমন্ত্রী কর্মী নেওয়ার বিষয়ে যে দাবি করেছেন, তা বাংলাদেশ সরকারের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য নয়। মানবসম্পদমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করে তিনি বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছেন।
রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়েও বক্তব্য
এদিকে মিয়ানমার এখনো শরণার্থীদের প্রত্যাবাসনের জন্য নিরাপদ নয়—জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআরের এমন উদ্বেগেরও জবাব দিয়েছেন ফাহমি।
মালয়েশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ হাসানের বরাত দিয়ে তিনি জানান, স্বেচ্ছায় প্রত্যাবাসন কর্মসূচির প্রথম ধাপে ১ হাজার ৪৭৬ জন শরণার্থী একটি নথিতে স্বাক্ষর করে মিয়ানমারে স্বেচ্ছায় ফিরে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন।
ফাহমি জানান, মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন বিভাগের হেফাজতে থাকা মিয়ানমারের ১০ হাজারের বেশি শরণার্থীর মধ্যে দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যাচাই-বাছাই করে ৫ হাজার জনের একটি তালিকা তৈরি করে। পরে তালিকাটি মিয়ানমার দূতাবাসে পাঠানো হয়। সেখান থেকে মিয়ানমার সরকার ১ হাজার ৪৭৬ জনকে ফেরত নেওয়ার বিষয়ে সম্মতি দিয়েছে।
তিনি আরও বলেন, মালয়েশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী আশ্বস্ত করেছেন যে প্রত্যাবাসন করা শরণার্থীদের কোনো ধরনের ক্ষতি হবে না এবং তারা মিয়ানমারে নিরাপদে থাকতে পারবেন।
বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগ নিয়ে আগের বক্তব্য
এর আগে মঙ্গলবার বাংলাদেশের স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম জানিয়েছিলেন, সেপ্টেম্বরের শেষ দিক থেকে ধাপে ধাপে বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু হবে।
বাংলাদেশে নিযুক্ত মালয়েশিয়ার হাইকমিশনার শুহাদা ওসমানের সঙ্গে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী আব্দুল মঈন খানের সাক্ষাতের পর সাংবাদিকদের কাছে এ তথ্য জানিয়েছিলেন তিনি।
তবে একদিন পরই মালয়েশিয়া সরকারের পক্ষ থেকে ওই বক্তব্যকে বাংলাদেশের আনুষ্ঠানিক অবস্থান নয় বলে স্পষ্ট করা হলো।
