বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এক রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে মারামারির ঘটনায় জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের পাঁচ নেতাকর্মীকে দল থেকে বহিষ্কার এবং প্রশাসনের সঙ্গে সমঝোতা বৈঠকের পর টানা ৪০ ঘণ্টার কর্মবিরতি সাময়িকভাবে প্রত্যাহার করেছেন ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা। বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে শজিমেক হাসপাতালের কনফারেন্স রুমে জেলা প্রশাসন, পুলিশ, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ, স্থানীয় বিএনপি ও ছাত্রদলের শীর্ষ নেতাদের উপস্থিতিতে সাড়ে তিন ঘণ্টার বৈঠক শেষে এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়।
এর আগে গত মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) রাতে হাসপাতালের মেডিসিন ওয়ার্ডে এক রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে চিকিৎসকদের ওপর রোগীর স্বজন ও বহিরাগতরা হামলা চালায় বলে অভিযোগ ওঠে। ধারালো অস্ত্র ও রড নিয়ে চালানো ওই হামলায় অন্তত ২১ জন ইন্টার্ন চিকিৎসক আহত হন এবং চিকিৎসাসামগ্রী ভাঙচুর করা হয়। ওই ঘটনার জেরে বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) থানায় মামলা দায়ের করা হয়, যার ভিত্তিতে পুলিশ ইতিমধ্যে ছয়জনকে গ্রেফতার করেছে।
চিকিৎসকদের ওপর হামলা ও নিরাপত্তার দাবিতে বুধবার থেকে ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা কর্মবিরতি শুরু করলে পুরো হাসপাতালে সেবা বিপর্যয় ঘটে। বৃহস্পতিবার সকালে বহির্বিভাগের টিকিট কাউন্টার বন্ধ রেখে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ায় দূর-দূরান্ত থেকে আসা শত শত রোগী চরম ভোগান্তিতে পড়েন, যদিও জরুরি বিভাগের চিকিৎসা সেবা চালু ছিল।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বৃহস্পতিবার দুপুরে জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও বিএমএ প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে এক জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক চলাকালেই ছাত্রদলের পক্ষ থেকে শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে জড়িত পাঁচ নেতাকর্মীকে স্থায়ী বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানানো হয়। পাশাপাশি হাসপাতালে আর্মড আনসার ও সার্বক্ষণিক পুলিশ ফাঁড়ি বসানোর আশ্বাস দেওয়া হলে ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা তাঁদের কর্মবিরতি সাময়িকভাবে প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন।







