অপসারিত সাবেক বিচারপতি শাহেদুর রহমানের বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীতে যোগদানের খবর ঘিরে একটি পক্ষ থেকে ‘ঘুষ গ্রহণের দায়ে দেশের ইতিহাসে প্রথম অপসারিত বিচারপতি’ হিসেবে যে প্রচার চালানো হচ্ছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যেপ্রণোদিত ষড়যন্ত্র বলে দাবি করেছেন জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক অলিউল্লাহ নোমান। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বিগত আওয়ামী লীগ আমলের ওই ঘটনার নেপথ্য তথ্য ও আইনি সত্যতা তুলে ধরেছেন।
দৈনিক ইনকিলাব ও দৈনিক আমার দেশ-এ দীর্ঘকাল সাংবাদিকতা করা অলিউল্লাহ নোমান জানান, তৎকালীন সময়ে সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের তদন্ত প্রতিবেদনে স্পষ্টভাবেই উল্লেখ করা হয়েছিল শাহেদুর রহমানের বিরুদ্ধে ওঠা ঘুষের অভিযোগের কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি। তা সত্ত্বেও তৎকালীন রাজনৈতিক প্রভাব ও আওয়ামী লীগ সরকারের চাপের মুখে তাঁকে হাইকোর্টের বিচারকের আসন থেকে অপসারণ করা হয়েছিল।
পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, তৎকালীন আওয়ামী সমর্থক আইনজীবী ও চক্রান্তকারীদের ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছিলেন ওই বিচারপতি। পরবর্তীতে নিজের পদ ও সম্মান ফিরে পেতে শাহেদুর রহমান হাইকোর্টে মামলা দায়ের করলে দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে আদালত তাঁর পক্ষে রায় প্রদান করেন। ওই সময় প্রতিবেদনের সত্যতা প্রমাণের জন্য আদালতে এফিডেভিটও করা হয়েছিল।
সাংবাদিক নোমানের মতে, সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগ বিচারপতির পক্ষে রায় দেওয়া সত্ত্বেও তৎকালীন সরকার তাঁকে বিচারকের আসনে পুনর্বাসিত করেনি। ফলে ঘুষ গ্রহণের দায়ে অপসারিত হওয়ার দাবিটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং প্রকৃত আইনি সত্যকে আড়াল করে রাজনৈতিকভাবে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
