সেপ্টেম্বর থেকে নভেম্বর পর্যন্ত টানা তিন মাস রাজপথে থাকার বড় ধরনের প্রস্তুতি নিচ্ছে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য। ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম, রংপুর ও খুলনা অভিমুখী লংমার্চ, সিলেটে রেলযাত্রা এবং ১৪ নভেম্বর ঢাকায় অন্তত ১০ লাখ মানুষের সমাগমে মহাসমাবেশের পরিকল্পনা রয়েছে জোটটির। নেতাদের বক্তব্য অনুযায়ী, গণভোটের রায় ও জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নসহ ছয় দফা দাবি মানা না হলে ডিসেম্বরের রাজপথে আরও কঠোর কর্মসূচির দিকে যাবে তারা।
একই সময়ে ডিসেম্বরের রাজনীতিতে যুক্ত হতে যাচ্ছে আরও দুটি স্পর্শকাতর ইস্যু। ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ওসমান হাদি হত্যার বিচারে দীর্ঘসূত্রতার অভিযোগে আগামী ১৮ ডিসেম্বর শাহবাগে বৃহৎ সমাবেশের ডাক দিয়েছে সংগঠনটি। অন্যদিকে, ২০২৫ সালের মে মাস থেকে কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা আওয়ামী লীগ এবং ভারতে অবস্থানরত শেখ হাসিনা ডিসেম্বরে বাংলাদেশে ফেরার আকস্মিক ঘোষণা দেওয়ায় রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে।
এদিকে ১১ দলীয় ঐক্যের আন্দোলন নিয়ে বিএনপির পক্ষ থেকে গুরুতর অভিযোগ উত্থাপন করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান দাবি করেছেন, জামায়াত ও এনসিপির এই আন্দোলন বিএনপি সরকারের বিরুদ্ধে চক্রান্ত এবং আওয়ামী লীগকে রাজনীতিতে পুনর্বাসনের অপচেষ্টা। তবে ১১ দলের নেতারা বিএনপির এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে জানিয়েছেন, জনস্বার্থ এবং গণভোটের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের দাবিসমূহ আদায় করতেই তাঁদের এই ধারাবাহিক আন্দোলন।
সেপ্টেম্বরের লংমার্চ থেকে শুরু হওয়া আন্দোলনের উত্তাপ নভেম্বরের মহাসমাবেশ পেরিয়ে ডিসেম্বরে গিয়ে বহুমুখী রাজনৈতিক সমীকরণের জন্ম দিতে যাচ্ছে। ১১ দলের কঠোর রাজপথীয় কর্মসূচি, ইনকিলাব মঞ্চের হাদি হত্যার বিচারের দাবি এবং আওয়ামী লীগের ফিরতে চাওয়ার ঘোষণার ফলে আগামী কয়েক মাস রাজপথের ভূরাজনীতি অত্যন্ত সংঘাতপূর্ণ ও উত্তপ্ত হয়ে ওঠার তীব্র আশঙ্কা করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা।







