পাকিস্তানের প্রতিরক্ষাব্যবস্থায় এক ঐতিহাসিক পুনর্গঠনের মাধ্যমে দেশটির তিন বাহিনীর (সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনী) পূর্ণ ও সরাসরি আইনি কমান্ড সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের হাতে প্রদান করা হয়েছে। দেশটির পার্লামেন্টে নতুন প্রতিরক্ষা আইন পাসের মাধ্যমে তৈরি করা হয়েছে ‘চিফ অব ডিফেন্স ফোর্সেস’ (সিডিএফ) নামে একটি নতুন পদ, যা দায়িত্ব হিসেবে দেওয়া হয়েছে সেনাপ্রধান আসিম মুনিরকেই। পাকিস্তানের সামরিক ইতিহাসে এর আগে কখনোই একক কোনো সামরিক কর্মকর্তার হাতে তিন বাহিনীর এমন সর্বাত্মক আইনগত কর্তৃত্ব ছিল না।
নতুন আইনের আওতায় আসিম মুনির একই সাথে সিডিএফ ও সেনাপ্রধানের জোড়া দায়িত্ব পালন করবেন। তিনি সরাসরি কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে রিপোর্ট করবেন এবং প্রয়োজনে তিন বাহিনীকে অভিন্ন নির্দেশনা প্রদানের এখতিয়ার রাখবেন। তা ছাড়া, মন্ত্রিসভার আগাম অনুমোদন ছাড়াই সশস্ত্র বাহিনীর যেকোনো স্তরের সদস্যদের অবসর প্রদান, বরখাস্ত কিংবা পদে বহাল রাখার একক ক্ষমতা এখন তাঁর হাতে ন্যস্ত করা হয়েছে। ১৯৭৬ সালের পর পাকিস্তানের সামরিক কমান্ড কাঠামোয় এটিকে সবচেয়ে বড় পরিবর্তনের পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।
আইনগত এই পরিবর্তনের ফলে আসিম মুনিরের চলমান পাঁচ বছরের মেয়াদ ন্যূনতম ২০৩০ সাল পর্যন্ত বৃদ্ধি পেল। এ ছাড়া ফিল্ড মার্শাল হিসেবে তিনি আজীবন এই বিশেষ পদমর্যাদা, সুযোগ-সুবিধা ও ফৌজদারি আইনি বিচার থেকে চিরস্থায়ী সুরক্ষা বা ইমিউনিটি পাবেন। তাঁকে সিডিএফ বা সেনাপ্রধানের পদ থেকে সরাতে হলে পার্লামেন্টে দুই-তৃতীয়াংশের শক্ত সংখ্যাগরিষ্ঠতার প্রয়োজন হবে, যা তাঁর অবস্থানকে অভাবনীয় রাজনৈতিক ও সামরিক স্থায়িত্ব দিয়েছে।
পূর্বে ‘জয়েন্ট চিফস অব স্টাফ কমিটি’র চেয়ারম্যানের মাধ্যমে তিন বাহিনীর মধ্যে সমন্বয় করা হলেও তাঁর সরাসরি প্রয়োগযোগ্য কোনো কমান্ড ক্ষমতা ছিল না। নতুন এই কাঠামোর মাধ্যমে পুরোনো আমলাতান্ত্রিক জটিলতা দূর করে একক ক্ষমতার কেন্দ্র তৈরি হওয়ায় পাকিস্তানের সামরিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। দেশটির জ্যেষ্ঠ সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, এ ব্যবস্থার ফলে পুরোনো ধারার তুলনায় সেনাপ্রধান বা সিডিএফের হাতে এখন অভূতপূর্ব ও বাস্তবসম্মত নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রীভূত হলো।
