গণভোটের রায় অস্বীকার করে সরকার দেশের ৭০ শতাংশ মানুষকে অপমান ও প্রতারিত করেছে বলে মন্তব্য করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।
সরকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদ ও স্বৈরাচারের কবর রচনা করে সংসদের ভেতরেই সবকিছুর সমাধান করতে চেয়েছিলাম। রাজপথে আসতে চাইনি, কিন্তু সরকারই আমাদের বাধ্য করেছে। জনগণের গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করতেই হবে এবং তা আদায় না করা পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।
শনিবার রাতে চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক লালদীঘি ময়দানে ১১ দলীয় ঐক্য আয়োজিত ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চের সমাপনী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সমাবেশকে কেন্দ্র করে লালদীঘি ও আশপাশের এলাকায় বিপুলসংখ্যক মানুষের উপস্থিতি দেখা যায়।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ছয় দফা কোনো দলের ব্যক্তিগত দাবি নয়, এগুলো জনগণের দাবি। সরকারকে সতর্ক করে তিনি বলেন, এটি কেবল শুরু। দাবি বাস্তবায়ন না হলে আরও বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।
তিনি অভিযোগ করেন, সরকারি দলের লোকজন চুরি, দুর্নীতি ও সন্ত্রাসে জড়িয়ে পড়েছে। একই সঙ্গে চাঁদাবাজ, দুর্নীতিবাজ ও অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানান তিনি।
বিরোধীদলীয় নেতা আরও বলেন, বিগত আন্দোলনে বহু মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন, অনেকে গুম ও বন্দি হয়েছেন। সেই ত্যাগের কথা ভুলে গিয়ে কয়েক মাস ক্ষমতায় থেকে নিজেদের ‘শিশু সরকার’ হিসেবে উপস্থাপন করা গ্রহণযোগ্য নয়।
সমাবেশে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সংসদকে কার্যকর না করায় বিরোধী দল রাজপথে নামতে বাধ্য হয়েছে। তিনি বলেন, সরকার জনগণের সমস্যা সমাধানে ব্যর্থ হয়েছে এবং তেল, গ্যাস ও বিদ্যুতের সংকট আরও তীব্র হয়েছে।
এলডিপির চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বলেন, দেশের মানুষ সরকার পরিবর্তন চায়। অন্যদিকে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক বলেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না হলে সংবিধান সংস্কারের আন্দোলন সরকার পতনের আন্দোলনে রূপ নেবে।
এর আগে শনিবার সকালে রাজধানীর শাপলা চত্বর থেকে ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চের যাত্রা শুরু হয়। প্রায় ২৫০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে রাতে চট্টগ্রামের লালদীঘি ময়দানে সমাবেশের মধ্য দিয়ে কর্মসূচি শেষ হয়।
পথে নারায়ণগঞ্জের কাঁচপুর, কুমিল্লার নিমসার, পদুয়া বাজার ও চৌদ্দগ্রাম, ফেনীর মহিপাল এবং চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে পথসভা অনুষ্ঠিত হয়। এসব কর্মসূচিতে বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মীর উপস্থিতি দেখা যায়।
১১ দলীয় ঐক্য জানিয়েছে, ছয় দফা দাবি বাস্তবায়ন না হলে পর্যায়ক্রমে রংপুর, খুলনা-কুষ্টিয়া ও সিলেট অভিমুখে আরও লংমার্চ কর্মসূচি পালন করা হবে। এরপর ডিসেম্বর বা জানুয়ারিতে ঢাকায় মহাসমাবেশের মাধ্যমে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
জোটের ছয় দফা দাবির মধ্যে রয়েছে—জুলাই গণহত্যার বিচার, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, বিদ্যুৎ-তেল-গ্যাস ও সার সংকট নিরসন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি এবং দলীয়করণ বন্ধ করা।







