যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় অবস্থিত মিয়ামি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের সময় রানওয়ে থেকে ছিটকে পড়ে ভয়াবহ দুর্ঘটনার কবলে পড়েছে ‘আমাজন প্রাইম এয়ার’-এর একটি পণ্যবাহী উড়োজাহাজ। বিমানটি রানওয়ে অতিক্রম করে নিকটস্থ সড়ক ও কয়েকটি গাড়ির ওপর আছড়ে পড়ার পর মুহূর্তেই আগুন ধরে যায়। এতে অন্তত পাঁচজন নিহত এবং আরও পাঁচজন গুরুতর আহত হয়েছেন।
আমাজনের পক্ষে ‘২১ এয়ার’ দ্বারা পরিচালিত বোয়িং ৭৬৭-৩০০ পণ্যবাহী ফ্লাইটটি (ফ্লাইট ৭৫৯৮) পুয়ের্তো রিকোর সান হুয়ান থেকে মিয়ামিতে এসেছিল। রবিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার দিকে রানওয়েতে নামার সময় বিমানটি গতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ব্যর্থ হয়ে সীমানা ছাড়িয়ে পাশে থাকা গাড়ি ও লরির ওপর উঠে যায়। দুর্ঘটনাকবলিত বিমানটি থেকে আকাশে কয়েক কিলোমিটারজুড়ে ঘন কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী ছড়িয়ে পড়ে।
মিয়ামি-ডেড ফায়ার সার্ভিসের চিফ রে জাদাল্লাহ জানান, দুর্ঘটনাস্থলে উড়োজাহাজের ককপিটে পাইলট ও কো-পাইলট আটকা পড়েছিলেন, পাশাপাশি সড়কপথে ক্ষতিগ্রস্ত কয়েকটি গাড়ির ভেতরেও সাধারণ মানুষ আটকা পড়েন। ফায়ার সার্ভিসের ৬০টিরও বেশি ইউনিট এবং ২০০ জনের মত কর্মী বিশেষ ফোম ব্যবহার করে ইঞ্জিনের আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। আহতদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
দুর্ঘটনার পর পরই নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং জ্বালানি লিক সামলাতে মিয়ামি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ সবকটি রানওয়ে ও ট্যাক্সিওয়ে সাময়িকভাবে বন্ধ করে দিয়ে ‘গ্রাউন্ড স্টপ’ জারি করে। এতে ওই বিমানবন্দরে শত শত ফ্লাইট বাতিল ও বিলম্বিত হওয়ায় স্বাভাবিক বিমান চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে।
মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনায় গভীর শোক ও সমবেদনা প্রকাশ করেছে টেক জায়ান্ট আমাজন। বিমানটি রানওয়ে থেকে ছিটকে যাওয়ার সঠিক কারণ খতিয়ে দেখতে মার্কিন ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (FAA) এবং ন্যাশনাল ট্রাফিস অ্যান্ড ট্রান্সপোর্টেশন সেফটি বোর্ড (NTSB) যৌথভাবে তাদের উচ্চপর্যায়ের তদন্ত শুরু করেছে।







