খুলনার পাইকগাছা উপজেলার খড়িয়া নবারুন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দীপক চন্দ্র সরকারের বিরুদ্ধে দ্বৈত নাগরিকত্বের প্রমাণ মিলেছে। তিনি বাংলাদেশের পাশাপাশি ভারতের পশ্চিমবঙ্গেরও নাগরিক। উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ের তদন্তে এই তথ্য নিশ্চিত হওয়া সত্ত্বেও তিনি এখনও স্বপদে বহাল রয়েছেন। তবে মাউশির বিরুদ্ধে তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে কালক্ষেপণের অভিযোগ তুলেছেন সচেতন মহল।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরে (মাউশি) অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষকের উপস্থিতিতে এক শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। শুনানি শেষে মাউশির মাধ্যমিক শাখার পরিচালক প্রফেসর মো. সাখাওয়াত হোসেন খান ও উপপরিচালক মো. জাকির হোসেন জানান, অভিযুক্ত শিক্ষক আসলেই ভারতের নাগরিক কি না, তা আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হতে সরাসরি ভারতীয় হাইকমিশনে চিঠি পাঠানো হবে। সেখান থেকে উত্তর মেলার পর তাঁর বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
এর আগে গত ফেব্রুয়ারি মাসে পাইকগাছা উপজেলা নির্বাহী অফিসারের গঠিত ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে প্রতিবেদন জমা দেয়। প্রতিবেদনে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচন নিবন্ধন আধিকারিক কর্তৃক প্রকাশিত ভোটার তালিকার সূত্র উল্লেখ করে স্পষ্ট জানানো হয় যে, দীপক চন্দ্র সরকার ভারতীয় নাগরিক ও ভোটার। সরকারি এমপিও নীতিমালা অনুযায়ী বিদেশি নাগরিকের এমপিওভুক্ত পদে বহাল থাকা সম্পূর্ণ অবৈধ ও নিয়মবহির্ভূত।
অভিযোগকারী প্রকাশ চন্দ্র সরকারের দাবি, প্রধান শিক্ষক দীপক চন্দ্র সরকার বিদ্যালয়টিতে ব্যপক নিয়োগ বাণিজ্য চালিয়ে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। সেই অর্থ তিনি ভারতে পাচার করে পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার বড়শুল এলাকায় বিলাসবহুল অট্টালিকা তৈরি করেছেন। তিনি অবিলম্বে এই শিক্ষকের এমপিও বাতিল ও আইনগত শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযুক্ত শিক্ষক দীপক চন্দ্র সরকার নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন। তিনি বলেন, তিনি ভারতের নাগরিক নন এবং তাঁর বিরুদ্ধে ভুয়া নথিপত্র তৈরি করা হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ের নিরপেক্ষ তদন্ত প্রতিবেদনকেও তিনি ভুল এবং অসমর্থিত বলে দাবি করেন।
